টাঙ্গাইল ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নওগাঁয় ঝুঁকি নেই  শরৎ’র শিশির ভেজা প্রভাতে দেবীদুর্গার আগমন আনন্দে উচ্ছ্বসিত সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ কালিহাতীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীকে মারধর ও রান্নাঘর ভাঙচুরের অভিযোগ নরসিংদীর রায়পুরার তিনটি চরাঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে দিনভর যৌথ অভিযান কালিহাতীতে ভাংচুরের অভিযোগ মিথ্যা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন নরসিংদীর রায়পুরায় পূর্ব বাঘাইকান্দি এস ই এস ডি পি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়কে দ্রুত কলেজে রূপান্তরের ঘোষণা সচিব জিয়াউল হকের নরসিংদীর রায়পুরায় মাসব্যাপী কুটির শিল্প ও পণ্য মেলার উদ্বোধন নরিসংদীতে রায়পুরা ম্যারাথনে দেশ-বিদেশের পপ্রায় এক হাজার দৌড়বিদ অংশ গপ্রহন উপেক্ষিত মন্ত্রীর নির্দেশ ! “ বাঁশকাণ্ডে কাঁপছে বাসাইল, অধরা ঠিকাদার জাহাঙ্গীর ” নরসিংদীর রায়পুরায় দুর্নীতি-অনিয়ম ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নয়: ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল ঘুষের টাকা না পেয়ে হয়রানীর অভিযোগ ভূঞাপুরের ওসি রেজাউলের বিরুদ্ধে
ব্রেকিং নিউজ :
আপনারা সর্বশেষ নিউজের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করে রাখুন ... ATV Bangla News

নওগাঁয় ঝুঁকি নেই  শরৎ’র শিশির ভেজা প্রভাতে দেবীদুর্গার আগমন আনন্দে উচ্ছ্বসিত সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ

গৌতম কুমার মহন্ত, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশিত : বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁয় ঝুঁকি নেই
শরৎ’র শিশির ভেজা প্রভাতে দেবীদুর্গার আগমন আনন্দে উচ্ছ্বসিত সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ

গৌতম কুমার মহন্ত নওগাঁঃ শরৎ এর শিশির ভেজা কুয়াশায় আচ্ছন্ন প্রভাতে শারদীয় দুর্গাদেবীর আগমনে নওগাঁর সদরসহ এগারো উপজেলা উৎসব মুখোর উঠেছে। শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে জেলার মন্দির গুলোতে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
সার্বজনীন এ দুর্গােৎসব উপলক্ষে জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষরাও জামাই-মেয়ে ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে যাওয়া এবং নিয়ে আসার প্রথা সেই আদিকাল থেকেই চলে আসছে। সেই প্রথার বাত্যয় ঘটেনি এবারও। সেই সঙ্গে পুজা উপলক্ষে হিন্দুসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের অনেক বাড়িতে নারিকেল, তিল, বাদাম এবং চানাচুরের নাড়ু ও মোলা করার ধুম পড়ে গেছে।শরৎ’র শারদীয় দুর্গাদেবীর ক্ষন গননা শুরু হওয়ায় জেলার সদরসহ ১১ উপজেলার ৮৩৮টি স্থায়ী এবং অস্থায়ী দুর্গা মন্দিরে মৃৎশিল্পীরা যে যার মতো তাদের হাতের নৈপুণ্য তুলে ধরাসহ প্রতিমায় রং তুলির শেষ আঁচর দিতে সময় অপচয় করেনি।একই সঙ্গে মন্দির গুলোতে প্রতিবছরের মতো এবারো প্রতিযোগিতা মুলকভাবে ডেকোরেশনের পাশাপাশি ব্যাপক আলোকসজ্জার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আলোকসজ্জা ও মন্দির গুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের ব্যাবস্থা রাখা হয়েছে। সার্বজনীন এ দুর্গাপূজাকে উৎসব মুখোর করতে বিগত বছর গুলোর চেয়ে এবছর সরকারি বরাদ্দে একশ’কেজি চাল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এবছর অনুদান হিসেবে জেলার প্রতিটি দুর্গা পূজা মন্দিরে ৬শ’কেজি চালের ডিও লেটার ইতোমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে।শান্তিপুর্ন ও নির্বিঘ্নে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষরা যেন ৬ দিনব্যাপী তাদের বৃহৎ ধর্মীয় এ উৎসব পালন করতে পারে সে লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্ব স্ব এলাকার এমপি, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, আইন শৃংখলা বাহিনী, পুজা উদযাপন পরিষদ, পুজা উদযাপন ফ্রন্ট ও বিভিন্ন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। পুজা উপলক্ষে এবছর অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ চন্দ্র সরকার ও নওগাঁ পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পিযুষ কান্তি সরকার, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বলেন, একটি বিশেষ মহল পুজায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছে, কারো উসকানি মুলক কথায় এবং আচরণের ফাঁদে পা দিবেননা। প্রয়োজনে দ্রুত আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীকে জানানোর আহবান জানান ওই দুই সনাতনী নেতা। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট নওগাঁ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুমার দাস বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির এদেশ। এদেশে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের স্ব স্ব ধর্ম পালন করে আসছে শত-শত বছর ধরে।সার্বজনীন এ দুর্গাপূজা উদযাপনে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাকে আইনের হাতে সোর্পদ করার আহবান জানান তিনি। এবিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, সনতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা।এ পুজা উপলক্ষে জেলা পুলিশ সর্বচ্চো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং নিষ্ঠার সাথে দ্বায়িত্ব পালন করছে।একই সঙ্গে পুজা শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত মন্দির গুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় আনসার ও ভিডিপির সদস্যদের পাশাপাশি মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা দ্বায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও মন্দির গুলোতে সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি এসআরবি’র একাধিক টিম সার্বক্ষনিক নজরদারি করছে। কোনো দৃস্কৃতিকারী যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায়,সেদিকে সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান তিনি। ১৬ অক্টোবর শুক্রবার ভোরে ষষ্ঠী তীথি থেকে ২১ অক্টোবর বুধবার দুপুরে বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এবছরের মতো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৬ দিনব্যাপী দুর্গা পূজার সমাপ্তি ঘটবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নওগাঁয় ঝুঁকি নেই  শরৎ’র শিশির ভেজা প্রভাতে দেবীদুর্গার আগমন আনন্দে উচ্ছ্বসিত সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ

প্রকাশিত : বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

নওগাঁয় ঝুঁকি নেই
শরৎ’র শিশির ভেজা প্রভাতে দেবীদুর্গার আগমন আনন্দে উচ্ছ্বসিত সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ

গৌতম কুমার মহন্ত নওগাঁঃ শরৎ এর শিশির ভেজা কুয়াশায় আচ্ছন্ন প্রভাতে শারদীয় দুর্গাদেবীর আগমনে নওগাঁর সদরসহ এগারো উপজেলা উৎসব মুখোর উঠেছে। শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে জেলার মন্দির গুলোতে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
সার্বজনীন এ দুর্গােৎসব উপলক্ষে জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষরাও জামাই-মেয়ে ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে যাওয়া এবং নিয়ে আসার প্রথা সেই আদিকাল থেকেই চলে আসছে। সেই প্রথার বাত্যয় ঘটেনি এবারও। সেই সঙ্গে পুজা উপলক্ষে হিন্দুসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের অনেক বাড়িতে নারিকেল, তিল, বাদাম এবং চানাচুরের নাড়ু ও মোলা করার ধুম পড়ে গেছে।শরৎ’র শারদীয় দুর্গাদেবীর ক্ষন গননা শুরু হওয়ায় জেলার সদরসহ ১১ উপজেলার ৮৩৮টি স্থায়ী এবং অস্থায়ী দুর্গা মন্দিরে মৃৎশিল্পীরা যে যার মতো তাদের হাতের নৈপুণ্য তুলে ধরাসহ প্রতিমায় রং তুলির শেষ আঁচর দিতে সময় অপচয় করেনি।একই সঙ্গে মন্দির গুলোতে প্রতিবছরের মতো এবারো প্রতিযোগিতা মুলকভাবে ডেকোরেশনের পাশাপাশি ব্যাপক আলোকসজ্জার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আলোকসজ্জা ও মন্দির গুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের ব্যাবস্থা রাখা হয়েছে। সার্বজনীন এ দুর্গাপূজাকে উৎসব মুখোর করতে বিগত বছর গুলোর চেয়ে এবছর সরকারি বরাদ্দে একশ’কেজি চাল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এবছর অনুদান হিসেবে জেলার প্রতিটি দুর্গা পূজা মন্দিরে ৬শ’কেজি চালের ডিও লেটার ইতোমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে।শান্তিপুর্ন ও নির্বিঘ্নে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষরা যেন ৬ দিনব্যাপী তাদের বৃহৎ ধর্মীয় এ উৎসব পালন করতে পারে সে লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্ব স্ব এলাকার এমপি, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, আইন শৃংখলা বাহিনী, পুজা উদযাপন পরিষদ, পুজা উদযাপন ফ্রন্ট ও বিভিন্ন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। পুজা উপলক্ষে এবছর অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ চন্দ্র সরকার ও নওগাঁ পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পিযুষ কান্তি সরকার, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বলেন, একটি বিশেষ মহল পুজায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছে, কারো উসকানি মুলক কথায় এবং আচরণের ফাঁদে পা দিবেননা। প্রয়োজনে দ্রুত আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীকে জানানোর আহবান জানান ওই দুই সনাতনী নেতা। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট নওগাঁ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুমার দাস বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির এদেশ। এদেশে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের স্ব স্ব ধর্ম পালন করে আসছে শত-শত বছর ধরে।সার্বজনীন এ দুর্গাপূজা উদযাপনে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাকে আইনের হাতে সোর্পদ করার আহবান জানান তিনি। এবিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, সনতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা।এ পুজা উপলক্ষে জেলা পুলিশ সর্বচ্চো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং নিষ্ঠার সাথে দ্বায়িত্ব পালন করছে।একই সঙ্গে পুজা শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত মন্দির গুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় আনসার ও ভিডিপির সদস্যদের পাশাপাশি মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা দ্বায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও মন্দির গুলোতে সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি এসআরবি’র একাধিক টিম সার্বক্ষনিক নজরদারি করছে। কোনো দৃস্কৃতিকারী যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায়,সেদিকে সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান তিনি। ১৬ অক্টোবর শুক্রবার ভোরে ষষ্ঠী তীথি থেকে ২১ অক্টোবর বুধবার দুপুরে বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এবছরের মতো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৬ দিনব্যাপী দুর্গা পূজার সমাপ্তি ঘটবে।