টাঙ্গাইল ০২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
কালিহাতীতে কারখানা বন্ধের হুমকি, চাঁদা না দিলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ কালিহাতীতে হেলিকপ্টারে নবদম্পতির আগমন, দেখতে ভিড় এলাকাবাসীর পারখী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ হারুন অর রশীদ নরসিংদীর রায়পুরায় বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও গাড়ী ভাংচুর এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল নরসিংদীর মনোহরদীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ নরসিংদীর রায়পুরায় জাতীয় মৎস্য দিবস উপলক্ষ্যে উদ্বোধন, আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে ! টাঙ্গাইলে তীব্র ক্ষোভ কালিহাতীতে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী পালিত জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত
ব্রেকিং নিউজ :
আপনারা সর্বশেষ নিউজের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করে রাখুন ... ATV Bangla News

কালিহাতীতে কারখানা বন্ধের হুমকি, চাঁদা না দিলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

নাহিদ খান
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৩ বার পড়া হয়েছে

 

কালিহাতীতে কারখানা বন্ধের হুমকি, চাঁদা না দিলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

ইকরাম করিম সরকার টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় অবস্থিত প্রমিজাম মেটাল কারখানায় দলবদ্ধভাবে প্রবেশ করে চাঁদা দাবি, কারখানা বন্ধ করে দেওয়া এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে ২০–২৫ জনের একটি দলের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা কারখানা থেকে বের হলে তাঁদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ আগস্ট ২০–২৫ জনের একটি দল দলবদ্ধভাবে প্রমিজাম মেটাল কারখানায় প্রবেশ করে। এ সময় তারা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে চাঁদা দাবি করে। দাবি করা চাঁদা না দিলে আগামী সাত দিনের মধ্যে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, চাঁদা না দিলে কারখানায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। শ্রমিকরা কারখানা থেকে বাইরে বের হলে তাঁদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এতে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
চাঁদা না দিলে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি নিয়মনীতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। কারখানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্রসহ সংশ্লিষ্ট অনুমোদন রয়েছে বলে দাবি তাদের। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে সরকারকে রাজস্ব প্রদান করছে এবং সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এর পরও একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি ও অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। সর্বশেষ দলবদ্ধভাবে কারখানায় প্রবেশ করে চাঁদা দাবি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চাঁদা না দিলে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।আগুন দেওয়ার হুমকিতে উদ্বেগ কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চাঁদা দাবির পাশাপাশি কারখানায় আগুন দেওয়ার হুমকি শুধু প্রতিষ্ঠানের সম্পদের জন্য নয়, সেখানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।তাদের আশঙ্কা, অভিযুক্তরা যদি অবাধে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

 

 

  1. বিশেষ করে কারখানায় আগুন দেওয়ার হুমকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলেও অভিযুক্তরা থেমে নেই। বরং তারা বিভিন্নভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় মামলার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে প্রমিজাম মেটাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দলবদ্ধভাবে প্রবেশ করে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা আগুন দেওয়ার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে শিল্প ও ব্যবসার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।তাঁরা প্রশাসন ও পুলিশের কাছে অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
    কারখানা কর্তৃপক্ষও দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা এবং প্রমিজাম মেটালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
    তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কালিহাতীতে কারখানা বন্ধের হুমকি, চাঁদা না দিলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত : সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

 

কালিহাতীতে কারখানা বন্ধের হুমকি, চাঁদা না দিলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

ইকরাম করিম সরকার টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় অবস্থিত প্রমিজাম মেটাল কারখানায় দলবদ্ধভাবে প্রবেশ করে চাঁদা দাবি, কারখানা বন্ধ করে দেওয়া এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে ২০–২৫ জনের একটি দলের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা কারখানা থেকে বের হলে তাঁদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ আগস্ট ২০–২৫ জনের একটি দল দলবদ্ধভাবে প্রমিজাম মেটাল কারখানায় প্রবেশ করে। এ সময় তারা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে চাঁদা দাবি করে। দাবি করা চাঁদা না দিলে আগামী সাত দিনের মধ্যে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, চাঁদা না দিলে কারখানায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। শ্রমিকরা কারখানা থেকে বাইরে বের হলে তাঁদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এতে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
চাঁদা না দিলে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি নিয়মনীতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। কারখানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্রসহ সংশ্লিষ্ট অনুমোদন রয়েছে বলে দাবি তাদের। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে সরকারকে রাজস্ব প্রদান করছে এবং সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এর পরও একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি ও অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। সর্বশেষ দলবদ্ধভাবে কারখানায় প্রবেশ করে চাঁদা দাবি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চাঁদা না দিলে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।আগুন দেওয়ার হুমকিতে উদ্বেগ কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চাঁদা দাবির পাশাপাশি কারখানায় আগুন দেওয়ার হুমকি শুধু প্রতিষ্ঠানের সম্পদের জন্য নয়, সেখানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।তাদের আশঙ্কা, অভিযুক্তরা যদি অবাধে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

 

 

  1. বিশেষ করে কারখানায় আগুন দেওয়ার হুমকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলেও অভিযুক্তরা থেমে নেই। বরং তারা বিভিন্নভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় মামলার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে প্রমিজাম মেটাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দলবদ্ধভাবে প্রবেশ করে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা আগুন দেওয়ার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে শিল্প ও ব্যবসার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।তাঁরা প্রশাসন ও পুলিশের কাছে অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
    কারখানা কর্তৃপক্ষও দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা এবং প্রমিজাম মেটালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
    তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।