টাঙ্গাইল ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নরসিংদীর রায়পুরায় জাতীয় মৎস্য দিবস উপলক্ষ্যে উদ্বোধন, আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে ! টাঙ্গাইলে তীব্র ক্ষোভ কালিহাতীতে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী পালিত জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত কালিহাতীতে মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংবিরোধী প্রচারণা সভা নরসিংদী তাঁত বোর্ড এর উদ্যোগে জব ফেয়ার এর উদ্বোধন নওগাঁয় নিজ উদ্যোগে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এক সমাজসেবক নরসিংদীর রায়পুরায় কৃষক মোমেন হত্যা: অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৩ নওগাঁয় আত্রাই নদী থেকে উদ্ধার মরদেহ ভারতে হস্তান্তর  
ব্রেকিং নিউজ :
আপনারা সর্বশেষ নিউজের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করে রাখুন ... ATV Bangla News

শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে ! টাঙ্গাইলে তীব্র ক্ষোভ

নাহিদ খান
  • প্রকাশিত : রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৬ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে ! টাঙ্গাইলে তীব্র ক্ষোভ

​ “শিক্ষা আলো ছড়ায়, মাদক জীবন হারায়”—এই  প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মাদক নির্মূলে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় মঞ্চে কোনো শিক্ষককে স্থান না দেওয়া এবং এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নেতাকে প্রথম সারি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক বিতর্ক ও শিক্ষক সমাজে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

​রবিবার (১৬ আগস্ট) কালিহাতী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন কালিহাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক অনুষ্ঠান হলেও মঞ্চে কোনো কলেজের অধ্যক্ষ বা কোনো সিনিয়র শিক্ষককে বসতে দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য, টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যাপক এ.কে.এম. আব্দুল আউয়ালকে মঞ্চের প্রথম সারিতে বসার পর সেখান থেকে সরিয়ে পেছনের সারিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

​শিক্ষকদের সম্মানহানির এই ঘটনায় দর্শক সারিতে উপস্থিত শিক্ষক ও সুধীজনের মধ্যে তাৎক্ষণিক তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সচেতন মহলের ধারণা, অসৎ উদ্দেশ্যে , পরিকল্পিতভাবে শিক্ষকদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।

​সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইউম খান , উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ, টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এ.কে.এম. আব্দুল আউয়াল, ড্যাব নেতা ডা. শাহ আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো, কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান, কালিহাতী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুল বাশার তারেক,সহদেবপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল আজিজ এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মফিজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের মঞ্চে ঠাঁই না হওয়ার বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি একেএম আব্দুল আউয়ালের নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ” শিক্ষকদের সভায় অধ্যক্ষ ও
সিনিয়র শিক্ষকদের মঞ্চে আসন দেওয়া  যথার্থ ছিলো। ”

এ বিষয়ে এলেঙ্গার ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ” শিক্ষার মানোন্নয়ন  সভায় শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা হয়নি। মঞ্চে অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের স্থান না দিয়ে শিক্ষক  সমাজকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা সরকারী শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষকেও মঞ্চে নেওয়া হয়নি ।অথচ অনেক অযাচিত লোকদের মঞ্চে দেখা গেছে ।”

বিষয়টি নিয়ে দর্শকসারিতে থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জন শোনা গেছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠেছে মঞ্চ নিয়ন্ত্রণকারীদের বিরুদ্ধে। যারা সরকার দলীয় কোন পদ-পদবীতে না থেকেও  সরকারী- বেসরকারী সকল প্রোগ্রাম নিয়ন্ত্রণ করেন কিভাবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে ! টাঙ্গাইলে তীব্র ক্ষোভ

প্রকাশিত : রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে ! টাঙ্গাইলে তীব্র ক্ষোভ

​ “শিক্ষা আলো ছড়ায়, মাদক জীবন হারায়”—এই  প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মাদক নির্মূলে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় মঞ্চে কোনো শিক্ষককে স্থান না দেওয়া এবং এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নেতাকে প্রথম সারি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক বিতর্ক ও শিক্ষক সমাজে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

​রবিবার (১৬ আগস্ট) কালিহাতী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন কালিহাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক অনুষ্ঠান হলেও মঞ্চে কোনো কলেজের অধ্যক্ষ বা কোনো সিনিয়র শিক্ষককে বসতে দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য, টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যাপক এ.কে.এম. আব্দুল আউয়ালকে মঞ্চের প্রথম সারিতে বসার পর সেখান থেকে সরিয়ে পেছনের সারিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

​শিক্ষকদের সম্মানহানির এই ঘটনায় দর্শক সারিতে উপস্থিত শিক্ষক ও সুধীজনের মধ্যে তাৎক্ষণিক তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সচেতন মহলের ধারণা, অসৎ উদ্দেশ্যে , পরিকল্পিতভাবে শিক্ষকদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।

​সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইউম খান , উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ, টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এ.কে.এম. আব্দুল আউয়াল, ড্যাব নেতা ডা. শাহ আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো, কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান, কালিহাতী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুল বাশার তারেক,সহদেবপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল আজিজ এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মফিজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের মঞ্চে ঠাঁই না হওয়ার বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি একেএম আব্দুল আউয়ালের নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ” শিক্ষকদের সভায় অধ্যক্ষ ও
সিনিয়র শিক্ষকদের মঞ্চে আসন দেওয়া  যথার্থ ছিলো। ”

এ বিষয়ে এলেঙ্গার ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ” শিক্ষার মানোন্নয়ন  সভায় শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা হয়নি। মঞ্চে অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের স্থান না দিয়ে শিক্ষক  সমাজকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা সরকারী শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষকেও মঞ্চে নেওয়া হয়নি ।অথচ অনেক অযাচিত লোকদের মঞ্চে দেখা গেছে ।”

বিষয়টি নিয়ে দর্শকসারিতে থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জন শোনা গেছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠেছে মঞ্চ নিয়ন্ত্রণকারীদের বিরুদ্ধে। যারা সরকার দলীয় কোন পদ-পদবীতে না থেকেও  সরকারী- বেসরকারী সকল প্রোগ্রাম নিয়ন্ত্রণ করেন কিভাবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।