নরসিংদীর রায়পুরায় কৃষক মোমেন হত্যা: অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৩
- প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪ বার পড়া হয়েছে
নরসিংদীর রায়পুরায় কৃষক মোমেন হত্যা: অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৩
বশির আহম্মদ মোল্লা,নরসিংদী প্রতিনিধি :
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার সওদাগরকান্দি এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে কৃষক মোমেন মিয়া নিহতের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, টেঁটা, বিপুল পরিমাণ ককটেলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় রায়পুরা থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফরুক।
পুলিশ সুপার জানান, উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের সদাগরকান্দি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চানপুর ইউপি চেয়ারদম্যান মোমেন সরকার ও ফরিদ উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ২ আগস্ট ফরিদ উদ্দিনের অনুসারীরা হামলা চালালে গুলিবিদ্ধ হয়ে চেয়ারম্যানের অনুসারী কৃষক মোমেন মিয়া নিহত হন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সওদাগরকান্দি এলাকায় র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি একনলা বন্দুক, ৯ রাউন্ড গুলি, একটি হেলমেট, চারটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ঢাল, ১৩৬টি ককটেল, আটটি বল্লম, এক বালতি পাথর ও একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- সওদাগরকান্দি এলাকার হাসেন আলীর ছেলে মনির হোসেন, মৃত তালেব আলীর ছেলে আলকাছ এবং ফারুক মিয়ার ছেলে সাইমন।
পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফরুক জানান, এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চানপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোমেন সরকারের লোকজনের সঙ্গে ফরিদ উদ্দিনের অনুসারীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। পরে উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। তবে ওই সালিশে ফরিদ উদ্দিন ও তার অনুসারীরা অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২ আগস্ট সকালে ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল আগ্নেয়াস্ত্র ও দা, চাপাতি, বল্লম, ছুরি ও লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সরকার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলা প্রতিরোধে কৃষক মোমেন মিয়াসহ তার পক্ষের লোকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা গুলি ছোড়ে। এতে মোমেন মিয়াসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কৃষক মোমেন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ৪ আগস্ট নিহত মোমেন মিয়ার ছোট ভাই আমিন মিয়া বাদী হয়ে ৬৬ জনের নাম উল্লেখ করে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আশিকুর রহমান, রায়পুরা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুর, জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালিদ হোসেন শিশির এবং রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবর রহমান।










