টাঙ্গাইলে ভাতিজাকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে চাচার ফাঁসির আদেশ
- প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / ৫ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইলে ভাতিজাকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে চাচার ফাঁসির আদেশ
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পাঁচ বছর বয়সী ভাতিজা কেএম রাহেনুল ইসলাম আরাফকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পর হত্যা করার দায়ে তার চাচা মো. নুরনবীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আ ন ম ইলিয়াস এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি নুরনবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডিত মো. নুরনবী টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নব ধুলটিয়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের আতাউর রহমান ও মোছা. লুৎফা বেগমের ছেলে। নিহত শিশু আরাফ একই এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা খন্দকার রাসেলের ছেলে এবং মামলার বাদী মো. নাসির উদ্দিনের নাতি।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর গোপালপুরের গাঙ্গাপাড়া এলাকা থেকে শিশু আরাফকে কয়েকজনের সহযোগিতায় অপহরণ করেন তার চাচা নুরনবী। অপহরণের পর মোবাইল ফোনে পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ১১ অক্টোবর তার দাদা মো. নাসির উদ্দিন গোপালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে পুলিশের অভিযানে নুরনবী আটক হন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১২ অক্টোবর গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক এলাকা থেকে শিশু আরাফের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত শেষে গোপালপুর থানার এসআই মামুন ভূঞা ২০২৫ সালের ২৭ মে আদালতে নুরনবীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি ওমরাও খান দিপু জানান, শিশু আরাফকে হত্যার দায়ে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় নুরনবীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুকে অপহরণের দায়ে তাকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরাধের আলামত নষ্ট ও লাশ গুম করার অপরাধে পেনাল কোডের ২০১ ধারায় আরও ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী আসামির কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থদণ্ডের সম্পূর্ণ টাকা নিহত শিশুর পরিবার ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবে। একই আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী এই ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী মহসীন সিকদার বলেন, হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষী নেই। এছাড়া নুরনবীকে গ্রেপ্তারের পর তিন দিন আদালতে হাজির না করে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও জানান তিনি।



















