টাঙ্গাইল ০২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সংবাদ সম্মেলনে কালিহাতী থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও হয়রানির অভিযোগ ঢাকায় চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠে জাতীয় বৃক্ষ মেলা ২০২৬ বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে জব্দকৃত অবৈধ কারেন্ট জাল ও রিং জাল আগুনে পুড়ানো, ৩জন আটক ও জরিমানা আদায় নরসিংদীর কৃতি সন্তান পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি প্রয়াত আব্দুল মতলেব ভূঞার শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত নওগাঁয় পানিতে ডুবে নবদম্পতির মৃত্যু, শয়ন ঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার  জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপুকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ৯৪নং আউলিয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে টাংগাইল ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক সংগঠন  নরসিংদীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত কালিহাতী থানার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বিমানবন্দরে আটক
ব্রেকিং নিউজ :
আপনারা সর্বশেষ নিউজের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করে রাখুন ... ATV Bangla News

সংবাদ সম্মেলনে কালিহাতী থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও হয়রানির অভিযোগ

নাহিদ খান
  • প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

সংবাদ সম্মেলনে কালিহাতী থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও হয়রানির অভিযোগ

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বাসিন্দা এস. এম. মামুনুর রশিদ সংবাদ সম্মেলন করে কালিহাতী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌফিক আজমের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, মামলা গ্রহণে অনীহা এবং হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তিনি কালিহাতী পৌরসভার সাতুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। পরে একই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি জানান, গত ২৯ এপ্রিল ধলাটেংগর বালুঘাট এলাকা থেকে তার দুটি ড্রাম ট্রাক, দুই চালক এবং তার ছেলে মো. সিহাবকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়। তার দাবি, তার ছেলে কৌশলে পালিয়ে এলেও চালকদের মারধর করা হয় এবং বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ৩০ এপ্রিল কোকডহরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাফি খানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান। সেখানে বিষয়টি জানালে পুলিশ সুপার তাকে পুনরায় কালিহাতী থানায় গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে এস. এম. মামুনুর রশিদ দাবি করেন, কালিহাতী থানার তৎকালীন ওসি তৌফিক আজম তার কাছে মামলা গ্রহণের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ৪ মে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কালিহাতী থানাকে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ৫ মে আদালতের আদেশের কপি থানায় জমা দেওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তা তার গাড়ির কাগজপত্র নেন। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন, তার দুটি ট্রাক ৭ মে কালিহাতী থানার দক্ষিণ পাশের মাঠ থেকে জব্দ দেখিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জব্দ তালিকায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তাদের মধ্যে তার মামলার আসামিপক্ষের লোকজন রয়েছেন এবং নিরপেক্ষ কোনো সাক্ষী রাখা হয়নি।
মামুনুর রশিদ আরও অভিযোগ করেন, তদন্তে অনিয়ম এবং ভুয়া নথিপত্রের মাধ্যমে আসামিদের জামিনে বের হতে সহযোগিতা করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, “কালিহাতী থানার দক্ষিণ পাশে কোনো মাঠ আছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করছি।”
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ মে দিবাগত রাতে গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরার পথে পুলিশের একটি দল তাকে ধাওয়া করে। প্রাণভয়ে তিনি মোটরসাইকেল ফেলে ধানক্ষেতে আশ্রয় নেন এবং সারারাত সেখানে অবস্থান করেন। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করলে বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসে এবং গণমাধ্যমকর্মীরা তার পাশে দাঁড়ান বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক ওসি তৌফিক আজম বা সংশ্লিষ্ট পুলিশের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সংবাদ সম্মেলনে কালিহাতী থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

সংবাদ সম্মেলনে কালিহাতী থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও হয়রানির অভিযোগ

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বাসিন্দা এস. এম. মামুনুর রশিদ সংবাদ সম্মেলন করে কালিহাতী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌফিক আজমের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, মামলা গ্রহণে অনীহা এবং হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তিনি কালিহাতী পৌরসভার সাতুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। পরে একই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি জানান, গত ২৯ এপ্রিল ধলাটেংগর বালুঘাট এলাকা থেকে তার দুটি ড্রাম ট্রাক, দুই চালক এবং তার ছেলে মো. সিহাবকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়। তার দাবি, তার ছেলে কৌশলে পালিয়ে এলেও চালকদের মারধর করা হয় এবং বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ৩০ এপ্রিল কোকডহরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাফি খানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান। সেখানে বিষয়টি জানালে পুলিশ সুপার তাকে পুনরায় কালিহাতী থানায় গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে এস. এম. মামুনুর রশিদ দাবি করেন, কালিহাতী থানার তৎকালীন ওসি তৌফিক আজম তার কাছে মামলা গ্রহণের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ৪ মে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কালিহাতী থানাকে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ৫ মে আদালতের আদেশের কপি থানায় জমা দেওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তা তার গাড়ির কাগজপত্র নেন। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন, তার দুটি ট্রাক ৭ মে কালিহাতী থানার দক্ষিণ পাশের মাঠ থেকে জব্দ দেখিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জব্দ তালিকায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তাদের মধ্যে তার মামলার আসামিপক্ষের লোকজন রয়েছেন এবং নিরপেক্ষ কোনো সাক্ষী রাখা হয়নি।
মামুনুর রশিদ আরও অভিযোগ করেন, তদন্তে অনিয়ম এবং ভুয়া নথিপত্রের মাধ্যমে আসামিদের জামিনে বের হতে সহযোগিতা করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, “কালিহাতী থানার দক্ষিণ পাশে কোনো মাঠ আছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করছি।”
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ মে দিবাগত রাতে গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরার পথে পুলিশের একটি দল তাকে ধাওয়া করে। প্রাণভয়ে তিনি মোটরসাইকেল ফেলে ধানক্ষেতে আশ্রয় নেন এবং সারারাত সেখানে অবস্থান করেন। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করলে বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসে এবং গণমাধ্যমকর্মীরা তার পাশে দাঁড়ান বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক ওসি তৌফিক আজম বা সংশ্লিষ্ট পুলিশের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।