টাঙ্গাইল ১০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
এটিভি বাংলা নিউজের ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর উপস্থিতি; গান ও নৃত্যে মুগ্ধ কালিহাতীবাসী। নওগাঁয় শিশু সন্তানকে নদীর পানিতে ফেলেদিল  মা, উদ্ধারকারীকে পুরস্কৃত করল পুলিশ   নওগাঁয় পরিবেশ অধিদপ্তরের মোবাইল কোর্টে ৭টি ইটভাটার ২৯ লাখ টাকা জরিমানা নওগাঁয় সড়কে গাছ কেটে ডাকাতির চেষ্টা আটক-১ সকল সংবাদ কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি মাছুদুর রহমান মিলন বাসাইলে প্রভাবশালীদের দখলে ফসলি জমি, জীবনেশ্বর–শালিনা পাড়া রোডে নির্বিচারে মাটি কাটা খেলাধুলায় সৌহার্দ্য গড়ার উদ্যোগ, কালিহাতীতে উপজেলা প্রশাসনের ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট শুরু নওগাঁয় বিল থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার দক্ষিণ বেতডোবায় ১৫ তম মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত। এটিভি বাংলা নিউজের ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
ব্রেকিং নিউজ :
এটিভি বাংলা নিউজ এর ২২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে "১৫ জানুয়ারি ২০২৬" তারিখে  জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে | টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার আউলিয়াবাদ অডিটোরিয়ামে| আপনারা সর্বশেষ নিউজের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করে রাখুন

টাঙ্গাইলে গড়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম মাদকমুক্ত কেন্দ্রীয় সাধুসংঘ।

নাহিদ খান
  • প্রকাশিত : রবিবার, ৩০ জুন ২০২৪
  • / ২৮৩ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলে গড়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম মাদকমুক্ত কেন্দ্রীয় সাধুসংঘ।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো টাঙ্গাইলে গড়ে উঠেছে একটি বিশাল মাদকমুক্ত আখড়া, যা কেন্দ্রীয় সাধুসংঘ নামে পরিচিত। প্রায় একশত শতাংশ নিজস্ব জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রীয় সাধুসংঘ সাধু গুরু, বাউল, ফকির, পীর দরবেশ এবং গোসাই সহ অসংখ্য ভক্তদের একত্রিত করেছে।

২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার খিলদা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় সাধু গুরু, বাউল, ফকির, পীর এবং গোসাইদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সাধুসংঘের যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকেই এই সংগঠনটি লালন সাইজির ভাবধারা মেনে চলে আসছে।

কেন্দ্রীয় সাধুসংঘের প্রতিষ্ঠাতা, লেখক এবং সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম জানান, সংগঠনটি পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ভাগে বিভাজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় সাধু সংঘ সাংস্কৃতিক জোট, কেন্দ্রীয় সাধুসংঘ পাঠাগার, সাধুসংঘ টিভি এবং কেন্দ্রীয় সাধু পরিষদ। ভবিষ্যতে ভারত ও বাংলাদেশের বাংলা ভাষাভাষী সাধুদের একত্রিত করে মহা সাধু সম্মেলন ও লালন মেলার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও, রাবেয়া রহমত উল্লাহ বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা করে তা পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো লালন সাইজির ভাবধারা প্রচার ও প্রসার করা,আমরা চাই সাধুসংঘের মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি ছড়িয়ে পড়ুক।”

কেন্দ্রীয় সাধুসংঘের সভাপতি বাবু হরি মোহন পাল জানান, “আমরা সারা দেশ থেকে সাধু, গুরু, বৈষ্ণব, বাউল, ফকির, পীর, মাশায়েক এবং গোসাই সহ লালন সাইজির ভক্তদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী সাধু সম্মেলন ও লালন মেলা আয়োজন করি।”
রাবেয়া রহমত উল্লাহ বৃদ্ধাশ্রমের সিনিয়র সহ সভাপতি বিশিষ্ট্য শিল্পপতি শফিকুর রহমান মোল্লা বিন মতি বলেন, আমরা মানবতার কাজ করি এবং মানবিক মানুষ হওয়ার চেষ্টা করিতেছি। পরিবার কর্তৃক নির্যাতিত মা বাবাদের উদ্ধার করে আমাদের আশ্রমে ঠায় পায়। গরীব অসহায় মানুষ গুলোকে বিনা টাকায় ভর্তি করি এবং লালন পালন করি।

সিনিয়র সাধু আলতাব শাহ ফকির ও সাধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিজন ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা প্রতি বুধবার সন্ধ্যায় আধ্যাত্মিক আলোচনা আয়োজন করি, যেখানে সকল সাধু অংশ নেন।”

সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সিঙ্গার খোকন ও সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আল কামাল রতন জানান, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো লালন সাইজির গান গাওয়া ও শেখানো। আমরা বিশ্বাস করি, এই গান মানুষের মধ্যে শান্তি ও মানবিকতা ছড়িয়ে দেয়।”

কেন্দ্রীয় সাধুসংঘ প্রতি তিন বছর পরপর সারা দেশে একাধিকবার লালন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা আয়োজন করে এবং জাতীয় ফলসেবা দিবস পালন করে। এছাড়াও, তারা ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের মাঝে চিকিৎসা ও ঔষধ বিতরণ করে থাকে।

স্থানীয়রা মনে করেন, ধূমপানমুক্ত এই প্রতিষ্ঠানে সরকারি সহযোগিতা পেলে সংগঠনটি আরও ভালো করবে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এখানকার পরিবেশ খুবই সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ। সরকারের সহযোগিতা পেলে এটি আরও ভালো হবে।”

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

টাঙ্গাইলে গড়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম মাদকমুক্ত কেন্দ্রীয় সাধুসংঘ।

প্রকাশিত : রবিবার, ৩০ জুন ২০২৪

টাঙ্গাইলে গড়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম মাদকমুক্ত কেন্দ্রীয় সাধুসংঘ।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো টাঙ্গাইলে গড়ে উঠেছে একটি বিশাল মাদকমুক্ত আখড়া, যা কেন্দ্রীয় সাধুসংঘ নামে পরিচিত। প্রায় একশত শতাংশ নিজস্ব জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রীয় সাধুসংঘ সাধু গুরু, বাউল, ফকির, পীর দরবেশ এবং গোসাই সহ অসংখ্য ভক্তদের একত্রিত করেছে।

২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার খিলদা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় সাধু গুরু, বাউল, ফকির, পীর এবং গোসাইদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সাধুসংঘের যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকেই এই সংগঠনটি লালন সাইজির ভাবধারা মেনে চলে আসছে।

কেন্দ্রীয় সাধুসংঘের প্রতিষ্ঠাতা, লেখক এবং সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম জানান, সংগঠনটি পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ভাগে বিভাজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় সাধু সংঘ সাংস্কৃতিক জোট, কেন্দ্রীয় সাধুসংঘ পাঠাগার, সাধুসংঘ টিভি এবং কেন্দ্রীয় সাধু পরিষদ। ভবিষ্যতে ভারত ও বাংলাদেশের বাংলা ভাষাভাষী সাধুদের একত্রিত করে মহা সাধু সম্মেলন ও লালন মেলার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও, রাবেয়া রহমত উল্লাহ বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা করে তা পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো লালন সাইজির ভাবধারা প্রচার ও প্রসার করা,আমরা চাই সাধুসংঘের মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি ছড়িয়ে পড়ুক।”

কেন্দ্রীয় সাধুসংঘের সভাপতি বাবু হরি মোহন পাল জানান, “আমরা সারা দেশ থেকে সাধু, গুরু, বৈষ্ণব, বাউল, ফকির, পীর, মাশায়েক এবং গোসাই সহ লালন সাইজির ভক্তদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী সাধু সম্মেলন ও লালন মেলা আয়োজন করি।”
রাবেয়া রহমত উল্লাহ বৃদ্ধাশ্রমের সিনিয়র সহ সভাপতি বিশিষ্ট্য শিল্পপতি শফিকুর রহমান মোল্লা বিন মতি বলেন, আমরা মানবতার কাজ করি এবং মানবিক মানুষ হওয়ার চেষ্টা করিতেছি। পরিবার কর্তৃক নির্যাতিত মা বাবাদের উদ্ধার করে আমাদের আশ্রমে ঠায় পায়। গরীব অসহায় মানুষ গুলোকে বিনা টাকায় ভর্তি করি এবং লালন পালন করি।

সিনিয়র সাধু আলতাব শাহ ফকির ও সাধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিজন ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা প্রতি বুধবার সন্ধ্যায় আধ্যাত্মিক আলোচনা আয়োজন করি, যেখানে সকল সাধু অংশ নেন।”

সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সিঙ্গার খোকন ও সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আল কামাল রতন জানান, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো লালন সাইজির গান গাওয়া ও শেখানো। আমরা বিশ্বাস করি, এই গান মানুষের মধ্যে শান্তি ও মানবিকতা ছড়িয়ে দেয়।”

কেন্দ্রীয় সাধুসংঘ প্রতি তিন বছর পরপর সারা দেশে একাধিকবার লালন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা আয়োজন করে এবং জাতীয় ফলসেবা দিবস পালন করে। এছাড়াও, তারা ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের মাঝে চিকিৎসা ও ঔষধ বিতরণ করে থাকে।

স্থানীয়রা মনে করেন, ধূমপানমুক্ত এই প্রতিষ্ঠানে সরকারি সহযোগিতা পেলে সংগঠনটি আরও ভালো করবে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এখানকার পরিবেশ খুবই সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ। সরকারের সহযোগিতা পেলে এটি আরও ভালো হবে।”

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ