নওগাঁয় রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের মুল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস
- প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২০ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁয় রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের মুল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস
গৌতম কুমার মহন্ত, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর সদরসহ এগারো উপজেলায় রমজান মাস শুরুর একদিন আগেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্যের উর্ধগতিতে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে।
জেলার হাট বাজার গুলোতে কতিপয় অসাধু পাইকারী ও খুচরা ব্যাবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের পায়তারা করছে বলে ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে জেলার সদরসহ এগারো উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতিটি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। বৃহস্পতিবার শহরের পাইকারী ও খুচরা বাজার সরেজমিনে দেখা যায় বেগুন, কাঁচামরিচ, আদা, রসুন ও পেয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা।
ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ খেজুরের দামও বেড়েছে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
একই সঙ্গে দেশী ও ব্রয়লার মুরগীর দাম বাড়লেও স্থিতিশীল রয়েছে ছোলা বুট, ভোজ্যতেলসহ খাসি ও গরুর মাংসের দাম।
রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় বাড়তি খরচের চাপ পড়ছে স্বল্প আয়ের সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাবে মিলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে জেলা শহরের মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগী ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০টাকা। পাশাপাশি সোনালী ও লেয়ার মুরগী ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ২৭০ থেকে ২৮০ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুরগী ব্যবসায়ী বলেন, মুরগির সরবরাহ কম। খামার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে দাম বেশি। এছাড়া রমজান মাস উপলক্ষে বাজারে মুরগীর চাহিদা বেশি। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় একটু দাম বেড়েছে বলে ওই ব্যবসায়ী জানান। এদিকে, খুচরা সবজি বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। কাঁচামরিচ কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ বিক্রি হচ্ছে, ৩৫-৪০ টাকা হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা, করলা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা। তবে অন্যান্য সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম বেড়েছে। প্রতিকেজি রসুন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়, আদার দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০টাকা কেজিতে। পেঁয়াজের দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা। ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ সাধারণ মানের খেজুর কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ২৪০-২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
মহাদেবপুর উপজেলার ভোক্তা আমির হামজা বলছেন, রমজান এলেই কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানোর যে প্রবণতা এবারো দৃশ্যমান।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, বরাবরের মতোই বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা নিয়মিত জোরদার না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ পাচ্ছে।এছাড়াও দীর্ঘদিন নির্বাচিত সরকার না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছে মতো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে ভোক্তারা মনে করেন। নির্বাচিত নতুন সরকার ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হবে এমন প্রত্যাশা ভোক্তাদের।
স্থানীয় পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের শুরুতে প্রয়োজনের তুলনায় ভোক্তারা একসঙ্গে অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করে থাকে। ভোক্তাদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে বলে দাবী ব্যবসায়ীদের।
তবে কৃত্রিম সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করে মহাদেবপুর বাসস্ট্যান্ড বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক উৎপল কুমার ঘোষ বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে কোন ঘাটতি নেই। এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নওগাঁর সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ বলেন, বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রতিদিনই মনিটর ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি কোন ভোক্তা দাম বৃদ্ধির অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।















