নরসিংদীর রায়পুরায় সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ; পরিদর্শনে নিম্নমানের কাজে এমপি বকুলের কঠোর হুশিয়ারী
- প্রকাশিত : সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
- / ৩ বার পড়া হয়েছে
নরসিংদীর রায়পুরায় সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ; পরিদর্শনে নিম্নমানের কাজে এমপি বকুলের কঠোর হুশিয়ারী
বশির আহম্মদ মোল্লা, নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রায়পুরা বাজার থেকে শাহচর সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এমপি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে প্রতিবাদী, সৎ, সাহসী ও নীতিবান শহীদ জিয়া এবং মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের সৈনিক হিসেবে দলের পরীক্ষিত ত্যাগী জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এমপি দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
লোভ-লালসা বিসর্জন দিয়ে তিনি সৎ ও সাহসী ভূমিকা পালন করে এগিয়ে যাচ্ছেন। দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড এবং কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি তিনি কখনো বরদাস্ত করেন না। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি সকলের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
পরিদর্শনকালে কাজের মান নিম্নস্তরের হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন ও সাব-কন্ট্রাক্টর ‘লুঙ্গি মিলন’-এর কাজের মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় তিনি কাজের বিভিন্ন ত্রুটি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন বলে হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। এমপি বকুল সরাসরি বলেন, যাকে দিয়ে কাজ করানো হয়েছে সে কাজ জানে না এবং নিম্নমানের কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রায়পুরায় এমন নিম্নমানের কাজ চলবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে মূল ঠিকাদার কাজ নিয়ে তা অন্যের কাছে বিক্রি করে দেন, যার ফলে কাজের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে তিনি সার্টিফিকেশনপ্রাপ্ত দক্ষ ব্যক্তির মাধ্যমে কাজ সম্পাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সাব-কন্ট্রাক্টরদেরও বাধ্যতামূলকভাবে যোগ্যতা যাচাইয়ের আওতায় আনার কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে তিনি নিম্নমানের ইট ব্যবহার, পর্যাপ্ত সিমেন্ট না দেওয়া এবং সার্বিকভাবে কাজের মান ঠিক না থাকার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যারা কাজ পায়, তাদের কাজের মান খারাপ হলে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে, প্রয়োজনে তাদের সার্টিফিকেট বাতিল করা হবে।”
এমপি বকুল জানান, তিনি আগামী পাঁচ বছর নিজেই এসব উন্নয়ন কাজের তদারকি করবেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের প্রতি আহ্বান জানান, কাজ পাওয়ার পর তা অন্যের কাছে বিক্রি না করে নিজেরাই তদারকি নিশ্চিত করতে।
উল্লেখ্য, রায়পুরা বাজার হতে শাহচর পর্যন্ত কাজটি প্রায় ৬ কোটি টাকার বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও এমন অনিয়ম করার অভিযোগে এমপি বকুল পরিদর্শন করেন। ইতোমধ্যে এমপি বকুল সকল কাজেই সততা ও আদর্শের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি রায়পুরা পৌরসভার ইজারা ও পান্থশালা কেয়াঘাটের ইজারা বাতিল করেছেন।
তিনি সবাইকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে কোনো প্রকার দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরাও কাজ করবো সততার সাথে।
জেলা এলজিইডি কর্মকর্তা ফুলকাম বাদশা ১৩ এপ্রিল সোমবার বিকালে রায়পুরা উপজেলার কার্যক্রম পরিদর্শন করতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।











