টাঙ্গাইল ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
এটিভি বাংলা নিউজের ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর উপস্থিতি; গান ও নৃত্যে মুগ্ধ কালিহাতীবাসী। নওগাঁয় শিশু সন্তানকে নদীর পানিতে ফেলেদিল  মা, উদ্ধারকারীকে পুরস্কৃত করল পুলিশ   নওগাঁয় পরিবেশ অধিদপ্তরের মোবাইল কোর্টে ৭টি ইটভাটার ২৯ লাখ টাকা জরিমানা নওগাঁয় সড়কে গাছ কেটে ডাকাতির চেষ্টা আটক-১ সকল সংবাদ কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি মাছুদুর রহমান মিলন বাসাইলে প্রভাবশালীদের দখলে ফসলি জমি, জীবনেশ্বর–শালিনা পাড়া রোডে নির্বিচারে মাটি কাটা খেলাধুলায় সৌহার্দ্য গড়ার উদ্যোগ, কালিহাতীতে উপজেলা প্রশাসনের ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট শুরু নওগাঁয় বিল থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার দক্ষিণ বেতডোবায় ১৫ তম মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত। এটিভি বাংলা নিউজের ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
ব্রেকিং নিউজ :
এটিভি বাংলা নিউজ এর ২২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে "১৫ জানুয়ারি ২০২৬" তারিখে  জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে | টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার আউলিয়াবাদ অডিটোরিয়ামে| আপনারা সর্বশেষ নিউজের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করে রাখুন

নওগাঁয় শিশু সন্তানকে নদীর পানিতে ফেলেদিল  মা, উদ্ধারকারীকে পুরস্কৃত করল পুলিশ  

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ 
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁয় শিশু সন্তানকে নদীর পানিতে ফেলেদিল  মা, উদ্ধারকারীকে পুরস্কৃত করল পুলিশ

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

শিশু সন্তানকে আত্রাই নদীর পানিতে ফেলে দিয়ে থানায় হাজির হয়ে নিজেকে গ্রেফতারের দাবী করেন এক মা।ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যাওয়া শিশু সন্তান হাসপাতালে সুস্থ রয়েছে।

মা-সন্তানের এমন আলোচিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার আত্রাই নদীতে।

১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে  উপজেলার মাহমুদপুর আত্রাই নদীর ব্রিজ থেকে এক মা তার ১৬ মাস বয়সী নিজ শিশু সন্তানকে পানিতে ফেলে দেয়। সন্তানকে পানিতে ফেলে দিয়ে ওই মা থানা পুলিশের কাছে গিয়ে নিজেকে গ্রেফতারের দাবি করেন।

ঘটনাটি জানার পর দ্রুত থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে ঘটনাস্থল থেকে জীবিত উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।বর্তমানে ওই শিশু আশংকা মুক্ত বলে জানা গেছে।এ শিশুকে উদ্ধারে সহযোগিতাকারী এক ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করেছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার।

পত্নীতলা থানা পুলিশ জানায়,এদিন ওই সময় ১২ একজন মহিলা থানায় এসে জানায় তিনি তার ১৬ মাস বয়সী শিশু কন্যা সন্তানকে ব্রিজ থেকে আত্রাই নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছেন।সেই সঙ্গে তাকে গ্রেফতারের দাবিও করেন তিনি।তার মুখে  এ কথা শোনার পরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখানে খমির শেখ নামক এক ব্যক্তি শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। তবে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে ওই মহিলা মানসিক ভাসাম্যহীন।

এদিন বিকেলে পেশাগত কাজে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম পত্নীতলা থানা পরিদর্শনে যান। বিষয়টি শুনে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটিকে দেখতে যান।

এসময় ওই শিশুকে পানি থেকে উদ্ধারকারী খমির শেখকে আর্থিক পুরুষ্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার।

শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বলেন,তার স্ত্রী কিছুদিন যাবত মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।যার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, একজন মা থানায় এসে বলেন তিনি তার ১৬ মাস বয়সী নিজ সন্তাকে আত্রাই নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছেন।

ঘটনাটি নিশ্চিতে তিনি ওই শিশুটির পরিবারের লোকজনের কাছে ফোনে কথা বলেন এবং দ্রুত থানায় আসার কথা বলেন।

এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন,এদিন তিনি একটি প্রোগ্রাম ছিলেন। ঘটনাটি শোনার পর সঙ্গে সঙ্গে তিনি শিশুটিকে দেখতে হাসাপাতালে গিয়ে ছিলেন। ওই শিশুকে পানি থেকে উদ্ধারকারী ব্যক্তিও আহত হয়েছে।

মানবিক দিক থেকে উদ্ধারকারী ব্যক্তিকে খুশি হয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক পুরুষ্কার প্রদান করা হয়েছে।

এ শিশুর নিরপত্তাসহ তার মায়ের মানসিক চিকিৎসা করানোর বিষয়টি তার পরিবারের লোকজন নিশ্চিত করেছেন বলে পুলিশ সুপার জানান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নওগাঁয় শিশু সন্তানকে নদীর পানিতে ফেলেদিল  মা, উদ্ধারকারীকে পুরস্কৃত করল পুলিশ  

প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

নওগাঁয় শিশু সন্তানকে নদীর পানিতে ফেলেদিল  মা, উদ্ধারকারীকে পুরস্কৃত করল পুলিশ

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

শিশু সন্তানকে আত্রাই নদীর পানিতে ফেলে দিয়ে থানায় হাজির হয়ে নিজেকে গ্রেফতারের দাবী করেন এক মা।ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যাওয়া শিশু সন্তান হাসপাতালে সুস্থ রয়েছে।

মা-সন্তানের এমন আলোচিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার আত্রাই নদীতে।

১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে  উপজেলার মাহমুদপুর আত্রাই নদীর ব্রিজ থেকে এক মা তার ১৬ মাস বয়সী নিজ শিশু সন্তানকে পানিতে ফেলে দেয়। সন্তানকে পানিতে ফেলে দিয়ে ওই মা থানা পুলিশের কাছে গিয়ে নিজেকে গ্রেফতারের দাবি করেন।

ঘটনাটি জানার পর দ্রুত থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে ঘটনাস্থল থেকে জীবিত উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।বর্তমানে ওই শিশু আশংকা মুক্ত বলে জানা গেছে।এ শিশুকে উদ্ধারে সহযোগিতাকারী এক ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করেছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার।

পত্নীতলা থানা পুলিশ জানায়,এদিন ওই সময় ১২ একজন মহিলা থানায় এসে জানায় তিনি তার ১৬ মাস বয়সী শিশু কন্যা সন্তানকে ব্রিজ থেকে আত্রাই নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছেন।সেই সঙ্গে তাকে গ্রেফতারের দাবিও করেন তিনি।তার মুখে  এ কথা শোনার পরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখানে খমির শেখ নামক এক ব্যক্তি শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। তবে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে ওই মহিলা মানসিক ভাসাম্যহীন।

এদিন বিকেলে পেশাগত কাজে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম পত্নীতলা থানা পরিদর্শনে যান। বিষয়টি শুনে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটিকে দেখতে যান।

এসময় ওই শিশুকে পানি থেকে উদ্ধারকারী খমির শেখকে আর্থিক পুরুষ্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার।

শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বলেন,তার স্ত্রী কিছুদিন যাবত মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।যার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, একজন মা থানায় এসে বলেন তিনি তার ১৬ মাস বয়সী নিজ সন্তাকে আত্রাই নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছেন।

ঘটনাটি নিশ্চিতে তিনি ওই শিশুটির পরিবারের লোকজনের কাছে ফোনে কথা বলেন এবং দ্রুত থানায় আসার কথা বলেন।

এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন,এদিন তিনি একটি প্রোগ্রাম ছিলেন। ঘটনাটি শোনার পর সঙ্গে সঙ্গে তিনি শিশুটিকে দেখতে হাসাপাতালে গিয়ে ছিলেন। ওই শিশুকে পানি থেকে উদ্ধারকারী ব্যক্তিও আহত হয়েছে।

মানবিক দিক থেকে উদ্ধারকারী ব্যক্তিকে খুশি হয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক পুরুষ্কার প্রদান করা হয়েছে।

এ শিশুর নিরপত্তাসহ তার মায়ের মানসিক চিকিৎসা করানোর বিষয়টি তার পরিবারের লোকজন নিশ্চিত করেছেন বলে পুলিশ সুপার জানান।