টাঙ্গাইল ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নরসিংদীতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিনম্র শ্রদ্ধায় পালিত হয়েছে জুলাই শহীদ দিবস পালিত নওগাঁয় নয় দিনব্যাপী জগন্নাথ  দেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু নরসিংদীতে নদীতে ডুবে একসঙ্গে ৪ শিশুর মৃত্যু এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী কালিহাতীর কারিশমা কাল্পনিক প্রকল্পের নামে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ! কালিহাতীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: মোটরসাইকেল চালক নিহত ১  আহত ২ শিশুর ওপর নিষ্ঠুরতার অভিযোগে মাধবদী থানায় মামলা; চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে সদরের ইউএনও আসমা জাহান সরকার নরসিংদীর মাধবদীতে শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চাচির, গোপন ক্যামেরায় ধর পড়ল ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এমপিকে কৃষিপ্রতিমন্ত্রী করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছেন মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক, সাবেক মন্ত্রী, কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সিরাজ এর ৬ষ্ঠ মৃ’ত্যুবা’র্ষিকী পালিত দীর্ঘ ২২ বছর পর গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময়
ব্রেকিং নিউজ :
আপনারা সর্বশেষ নিউজের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করে রাখুন ... ATV Bangla News

নওগাঁয় শিশু সন্তানকে নদীর পানিতে ফেলেদিল  মা, উদ্ধারকারীকে পুরস্কৃত করল পুলিশ  

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ 
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৩০৯ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁয় শিশু সন্তানকে নদীর পানিতে ফেলেদিল  মা, উদ্ধারকারীকে পুরস্কৃত করল পুলিশ

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

শিশু সন্তানকে আত্রাই নদীর পানিতে ফেলে দিয়ে থানায় হাজির হয়ে নিজেকে গ্রেফতারের দাবী করেন এক মা।ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যাওয়া শিশু সন্তান হাসপাতালে সুস্থ রয়েছে।

মা-সন্তানের এমন আলোচিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার আত্রাই নদীতে।

১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে  উপজেলার মাহমুদপুর আত্রাই নদীর ব্রিজ থেকে এক মা তার ১৬ মাস বয়সী নিজ শিশু সন্তানকে পানিতে ফেলে দেয়। সন্তানকে পানিতে ফেলে দিয়ে ওই মা থানা পুলিশের কাছে গিয়ে নিজেকে গ্রেফতারের দাবি করেন।

ঘটনাটি জানার পর দ্রুত থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে ঘটনাস্থল থেকে জীবিত উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।বর্তমানে ওই শিশু আশংকা মুক্ত বলে জানা গেছে।এ শিশুকে উদ্ধারে সহযোগিতাকারী এক ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করেছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার।

পত্নীতলা থানা পুলিশ জানায়,এদিন ওই সময় ১২ একজন মহিলা থানায় এসে জানায় তিনি তার ১৬ মাস বয়সী শিশু কন্যা সন্তানকে ব্রিজ থেকে আত্রাই নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছেন।সেই সঙ্গে তাকে গ্রেফতারের দাবিও করেন তিনি।তার মুখে  এ কথা শোনার পরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখানে খমির শেখ নামক এক ব্যক্তি শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। তবে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে ওই মহিলা মানসিক ভাসাম্যহীন।

এদিন বিকেলে পেশাগত কাজে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম পত্নীতলা থানা পরিদর্শনে যান। বিষয়টি শুনে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটিকে দেখতে যান।

এসময় ওই শিশুকে পানি থেকে উদ্ধারকারী খমির শেখকে আর্থিক পুরুষ্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার।

শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বলেন,তার স্ত্রী কিছুদিন যাবত মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।যার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, একজন মা থানায় এসে বলেন তিনি তার ১৬ মাস বয়সী নিজ সন্তাকে আত্রাই নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছেন।

ঘটনাটি নিশ্চিতে তিনি ওই শিশুটির পরিবারের লোকজনের কাছে ফোনে কথা বলেন এবং দ্রুত থানায় আসার কথা বলেন।

এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন,এদিন তিনি একটি প্রোগ্রাম ছিলেন। ঘটনাটি শোনার পর সঙ্গে সঙ্গে তিনি শিশুটিকে দেখতে হাসাপাতালে গিয়ে ছিলেন। ওই শিশুকে পানি থেকে উদ্ধারকারী ব্যক্তিও আহত হয়েছে।

মানবিক দিক থেকে উদ্ধারকারী ব্যক্তিকে খুশি হয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক পুরুষ্কার প্রদান করা হয়েছে।

এ শিশুর নিরপত্তাসহ তার মায়ের মানসিক চিকিৎসা করানোর বিষয়টি তার পরিবারের লোকজন নিশ্চিত করেছেন বলে পুলিশ সুপার জানান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নওগাঁয় শিশু সন্তানকে নদীর পানিতে ফেলেদিল  মা, উদ্ধারকারীকে পুরস্কৃত করল পুলিশ  

প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

নওগাঁয় শিশু সন্তানকে নদীর পানিতে ফেলেদিল  মা, উদ্ধারকারীকে পুরস্কৃত করল পুলিশ

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

শিশু সন্তানকে আত্রাই নদীর পানিতে ফেলে দিয়ে থানায় হাজির হয়ে নিজেকে গ্রেফতারের দাবী করেন এক মা।ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যাওয়া শিশু সন্তান হাসপাতালে সুস্থ রয়েছে।

মা-সন্তানের এমন আলোচিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার আত্রাই নদীতে।

১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে  উপজেলার মাহমুদপুর আত্রাই নদীর ব্রিজ থেকে এক মা তার ১৬ মাস বয়সী নিজ শিশু সন্তানকে পানিতে ফেলে দেয়। সন্তানকে পানিতে ফেলে দিয়ে ওই মা থানা পুলিশের কাছে গিয়ে নিজেকে গ্রেফতারের দাবি করেন।

ঘটনাটি জানার পর দ্রুত থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে ঘটনাস্থল থেকে জীবিত উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।বর্তমানে ওই শিশু আশংকা মুক্ত বলে জানা গেছে।এ শিশুকে উদ্ধারে সহযোগিতাকারী এক ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করেছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার।

পত্নীতলা থানা পুলিশ জানায়,এদিন ওই সময় ১২ একজন মহিলা থানায় এসে জানায় তিনি তার ১৬ মাস বয়সী শিশু কন্যা সন্তানকে ব্রিজ থেকে আত্রাই নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছেন।সেই সঙ্গে তাকে গ্রেফতারের দাবিও করেন তিনি।তার মুখে  এ কথা শোনার পরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখানে খমির শেখ নামক এক ব্যক্তি শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। তবে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে ওই মহিলা মানসিক ভাসাম্যহীন।

এদিন বিকেলে পেশাগত কাজে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম পত্নীতলা থানা পরিদর্শনে যান। বিষয়টি শুনে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটিকে দেখতে যান।

এসময় ওই শিশুকে পানি থেকে উদ্ধারকারী খমির শেখকে আর্থিক পুরুষ্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার।

শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বলেন,তার স্ত্রী কিছুদিন যাবত মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।যার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, একজন মা থানায় এসে বলেন তিনি তার ১৬ মাস বয়সী নিজ সন্তাকে আত্রাই নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছেন।

ঘটনাটি নিশ্চিতে তিনি ওই শিশুটির পরিবারের লোকজনের কাছে ফোনে কথা বলেন এবং দ্রুত থানায় আসার কথা বলেন।

এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন,এদিন তিনি একটি প্রোগ্রাম ছিলেন। ঘটনাটি শোনার পর সঙ্গে সঙ্গে তিনি শিশুটিকে দেখতে হাসাপাতালে গিয়ে ছিলেন। ওই শিশুকে পানি থেকে উদ্ধারকারী ব্যক্তিও আহত হয়েছে।

মানবিক দিক থেকে উদ্ধারকারী ব্যক্তিকে খুশি হয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক পুরুষ্কার প্রদান করা হয়েছে।

এ শিশুর নিরপত্তাসহ তার মায়ের মানসিক চিকিৎসা করানোর বিষয়টি তার পরিবারের লোকজন নিশ্চিত করেছেন বলে পুলিশ সুপার জানান।