যতোই ট্রল করেন সঠিক দায়িত্ব পালনে বিচ্যুতি করাতে পারবেন না…শিক্ষামন্ত্রী মিলন
- প্রকাশিত : শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
- / ৬ বার পড়া হয়েছে
যতোই ট্রল করেন সঠিক দায়িত্ব পালনে বিচ্যুতি করাতে পারবেন না…শিক্ষামন্ত্রী মিলন
গৌতম কুমার মহন্ত, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা এসে দায়িত্ব পেয়েছি এই জাতিকে সুশিক্ষিত করার। যে যতো ট্রল আর অপবাদই করেন না কেন, আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে আপনারা বিচ্যুতি করতে পারবেন না।
১৮ জুলাই শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাগত বক্তব্য দিয়ে কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশ করা হয়। এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় ৫২, ৬৯, ৭১ ও ২৪ সালের আন্দোলনে সকল শহীদদের স্বরণে। এরপর প্রদর্শন করা হয় নওগাঁ জেলা ও নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর প্রামাণ্য চিত্র।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে তিনি শহরের বরুনকান্দি মোড় এলাকায় অবস্থিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচন এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি।
নিজের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সিটি কলেজ থেকে এক মেয়ে বারবার আমার সাথে কথা বলতে চাইলো। ভাবলাম বাচ্চা মেয়ে কল করেছে, তাই কথা বললাম। সে পরীক্ষা পেছানোর জন্য বলল। কিন্তু পরীক্ষাটা সকলকে নিয়েই নেওয়া হয়। ইচ্ছে করলেই পরিবর্তন করা যায়না। তবে আবহাওয়া ম্যানের সাথে কথা বলে জানতে পারি বৃষ্টি হবেনা। আর সেই জন্যই পরীক্ষা চলমান রাখা হয়।
আমাদের বড় সম্পদ। বাংলাদেশের প্রতিটি ছাত্র যারা বাইরে পড়তে গিয়েছে তারা অত্যন্ত সুনাম অর্জন করেছে। এখনও হিসেব করে দেখা যায় ডিস্টিন্ট পায় ওই বাংলাদেশি ছেলে মেয়েরা বিদেশে বসে। তাহলে আমরা কেন পারব না এই এডুকেশন হাব করতে? ব্রিটিশ ইউকে ৪০ বিলিয়ন ডলার বিজনেস করতে চায়,আমরা কেন পারব না ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিজনেস করতে এই বাংলাদেশে? এটাই তো আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই ধরণের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে থাকবে। ওই পরিবেশে আমরা কবে থেকে থাকবো। আর আমরা সেই বিশ্ববিদ্যালয় করতে যাচ্ছি।বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, নওগাঁবাসী যেন খুশি ও আনন্দিত হয়, তারা একটি সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয় পায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বক্তব্য দেন, স্থানীয় সরকারের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডাক্তার একরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো: এনামুল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ। এছাড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ও আরও ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যসহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মনিরা শারমিন উপস্থিত ছিলেন।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, খাদ্যে উদ্বৃত্ত সুখি সমৃদ্ধ তিন অক্ষরে একটা জেলা নওগাঁ। জুলাই আন্দোলনের কিছু অংশ যেমন ইতিহাস হয়ে থাকবে, তেমনি ১৮জুলাই নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধনও ইতিহাস হয়ে থাকবে। কাজেই নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরের যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে তাদের জন্য হাত তালি দেওয়া উচিৎ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা শিক্ষিত হয়ে শুধু সরকারি চাকরি করবো এটা ভাবা যাবেনা। কিভাবে বিদেশে গিয়ে সুনাম অর্জন করে বিদেশের টাকা দেশের মাটিতে পাঠানো যায় সেই চিন্তা ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, বলতে খুব খারাপ লাগে ভোলাতে মিছিল হচ্ছে নকল করতে দিতে হবে। আমরা কথা বললে আজ আপনারা বলেন, আমাদের আন্দোলনের কারণে আপনারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। আমরা সেটা অস্বীকার করিনা। কিন্তু আমরা ২০বছর আন্দোলন করেছি। আমরা তোমাদের সন্মান করি। তার মানে এই নয় বৃষ্টিতে ভিজলেই অটোপাস দিতে হবে। তার মানে এটা নিয়ে আন্দোলন করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। আবার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইতে চাইতে সরকারের পদত্যাগ চাইলো। অথচ শিক্ষামন্ত্রী সংসদে দু:খ প্রকাশ করেছিল, আর এটাই গনতন্ত্র। কাজেই যেই শিক্ষা ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের জন্য কাজে আসবে না, সেই শিক্ষা নিয়ে কোনো দাবি তোলা যাবে না।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে কতো বড় রিক্স নিয়ে ৯লাখ ৩৮হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। শিক্ষা খাতে যখন সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়া হয়, তখন একটা দলের এমপি সংসদে বলে প্রতিরক্ষা খাতে বেশি বাজেট দিতে হবে অস্ত্র কেনার জন্য। নওগাঁবাসীকে উদ্দেশ্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবকিছু ঠিক ছিল, কিন্তু এখান থেকে কিছু মানুষ বেহেশতে চলে গেছে, তারা যদি আমাদের সাথে দোযখে থাকতো। তাহলে ভালো লাগতো ও কাজ করে মজা লাগতো। তবে আগামী দিনে আমরা একসাথে কাজ করবো। এসময় সকল অতিথি কাগজের বিশ্ববিদ্যালয়কে কাজের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা জন্য উপাচার্য প্রফেসর ড. হাছানাত আলীকে ধন্যবাদ জানান।দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হিসাববিজ্ঞান ও আইনবিভাগে ৪০ জন করে ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলো নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের।



















