মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বই গোপনে বিক্রির চেষ্টা, জনতার হাতে আটক
- প্রকাশিত : বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
- / ৮ বার পড়া হয়েছে
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বই গোপনে
বিক্রির চেষ্টা, জনতার হাতে আটক
গৌতম কুমার মহন্ত নওগাঁঃ নওগাঁর পোরশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে গোপনে সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
১৭ মার্চ মঙ্গলবার ছুটির দিনে টেন্ডার ছাড়াই ওই কর্মচারীর সহযোগীতায় বিক্রির উদ্দেশ্যে বই গুলো অটোচার্জার যোগে নিয়ে যাওয়ার সময় বেলা ২ টার দিকে উপজেলার নীতপুর স্কুল এ্যান্ড কলেজ গেইট এলাকায় স্থানীয় লোকজন আটক করে। প্রায় ৭০০শ”কেজি বই অফিস সহকারী আমানত আলীর (৪৬) কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে আটোচার্জার চালক চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার কালীতলা কুজারমোড় এলাকার মৃত শওকত আলীর পুত্র তাইফুর আলী (৪৬) জানায়।
অভিযুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আমানত আলী উপজেলার নীতপুর মাস্টারপাড়ার মৃত বিসমিল্লাহ’র পুত্র।
এদিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের জন্য দেয়া বিনা মূল্যের সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করেছে। স্থানীয়রা জানান, আটককৃত বইসহ অটোচার্জার চালককে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট সোপর্দ করা হয়েছে। জানা গেছে, বিক্রির উদ্দেশ্যে নেয়া বইগুলোর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা। টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই সরকারি বই বিক্রির ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আমানত আলী স্থানীয় হওয়ার কারণে অফিসে বেপরোয়াভাবে চলাচল করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়াসহ শিক্ষকদের সঙ্গেও তিনি অসৎ আচরণ এবং টাকা ছাড়া কোন কাজ করেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। বই বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আমানত আলী মুঠোফোনে বলেন, একজনের অনুরোধে তিনি বইগুলো পরিস্কার করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে এটা তার ভুল হয়েছে বলে স্বীকার তিনি করেন। বিক্রির উদ্দেশ্যে নেয়া বইগুলো ২০২৪ সালের পুরোনো দাবী করে সাপাহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও পোরশার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার শামসুল কবীর মুঠোফোনে বলেন, তিনি ঈদের ছুটিতে আছেন। তবে যত পুরোতনই হোক সে বইগুলো বিধি মোতাবেক বিক্রি অথবা স্থানান্তর করতে হবে। আমানত আলী এটা অন্যায় করেছে,স্বীকার করে শিক্ষা অফিসার বলেন, ঈদের ছুটি শেষে অফিসে গিয়ে এবিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিক্রির উদ্দেশ্যে নেয়া আটককৃত বইগুলো জব্দ করার সত্যতা নিশ্চিত করে পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, অটোচার্জার চালকের জবানবন্দি নেয়া আছে। ঘটনার সময় চার্জার চালক ছাড়া শিক্ষা অফিসের কাউকে পাওয়া যায়নি। অফিস ছুটি থাকার কারণে শিক্ষা অফিসের কেউ ছিলনা। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিবেন বলে ইউএনও জানান।



















