বাসাইলে প্রভাবশালীদের দখলে ফসলি জমি, জীবনেশ্বর–শালিনা পাড়া রোডে নির্বিচারে মাটি কাটা
- প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
বাসাইলে প্রভাবশালীদের দখলে ফসলি জমি, জীবনেশ্বর–শালিনা পাড়া রোডে নির্বিচারে মাটি কাটা
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবালা ইউনিয়নের জীবনেশ্বর ও শালিনা পাড়া রোডসংলগ্ন এলাকায় ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ কর্মকাণ্ডে কৃষিজমি, পরিবেশ ও কৃষকদের জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাপ্রকাশ্যেই চলছে মাটি কাটা স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবনেশ্বর ও শালিনা পাড়া রোডের দুই পাশের একাধিক ফসলি জমি থেকে ভেকু ও ট্রাক ব্যবহার করে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব জমি থেকে মাটি তুলে বিভিন্ন স্থানে ভরাট ও নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে এই কাজ চললেও কার্যকর কোনো নজরদারি নেই।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শুরুতে অল্প পরিসরে মাটি কাটা হলেও ধীরে ধীরে তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে বিস্তীর্ণ জমি গভীর গর্তে পরিণত হয়েছে।কৃষিতে ভয়াবহ প্রভাব কৃষকদের ভাষ্য, ফসলি জমির ওপরের উর্বর মাটি তুলে নেওয়ায় জমির উৎপাদনক্ষমতা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় ধান, পাটসহ মৌসুমি ফসল চাষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে কৃষকদের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।জীবনেশ্বর এলাকার এক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে এই জমিতে চাষ করছি। এখন মাটি কেটে এমন অবস্থা করা হয়েছে যে, জমিতে নামাই যায় না। ভবিষ্যতে আমাদের সংসার কীভাবে চলবে, জানি না। ভয়ভীতি ও নীরবতা এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। কেউ বাধা দিতে গেলে নানা রকম ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে অনেকেই প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে চাইলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।শালিনা পাড়া এলাকার এক বাসিন্দা বলেন,আমরা সবাই জানি কারা মাটি কাটছে। কিন্তু তাদের নাম বলার সাহস কারও নেই। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার ফলে শুধু কৃষি নয়, এলাকার পরিবেশের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জমির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে বন্যা বা ভূমিধসের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন তারা।
হাবালা ইউনিয়ন পরিষদের এক জনপ্রতিনিধি বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে আইনের লঙ্ঘন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমতি ছাড়া ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও কৃষিজমি সুরক্ষা নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। আইন অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তির বিধান রয়েছে।এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে মাটি কাটা বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলো পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।














