টাঙ্গাইল ১০:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
এটিভি বাংলা নিউজের ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর উপস্থিতি; গান ও নৃত্যে মুগ্ধ কালিহাতীবাসী। নওগাঁয় শিশু সন্তানকে নদীর পানিতে ফেলেদিল  মা, উদ্ধারকারীকে পুরস্কৃত করল পুলিশ   নওগাঁয় পরিবেশ অধিদপ্তরের মোবাইল কোর্টে ৭টি ইটভাটার ২৯ লাখ টাকা জরিমানা নওগাঁয় সড়কে গাছ কেটে ডাকাতির চেষ্টা আটক-১ সকল সংবাদ কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি মাছুদুর রহমান মিলন বাসাইলে প্রভাবশালীদের দখলে ফসলি জমি, জীবনেশ্বর–শালিনা পাড়া রোডে নির্বিচারে মাটি কাটা খেলাধুলায় সৌহার্দ্য গড়ার উদ্যোগ, কালিহাতীতে উপজেলা প্রশাসনের ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট শুরু নওগাঁয় বিল থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার দক্ষিণ বেতডোবায় ১৫ তম মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত। এটিভি বাংলা নিউজের ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
ব্রেকিং নিউজ :
এটিভি বাংলা নিউজ এর ২২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে "১৫ জানুয়ারি ২০২৬" তারিখে  জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে | টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার আউলিয়াবাদ অডিটোরিয়ামে| আপনারা সর্বশেষ নিউজের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করে রাখুন

জামালপুরের পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাস শিক্ষা বঞ্চনায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী, সরকারি পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর**

মাহবুবুল আলম জামালপুর প্রতিনিধি:
  • প্রকাশিত : রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৪৬ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরের পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাস

শিক্ষা বঞ্চনায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী, সরকারি পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর**

মাহবুবুল আলম জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর সদর উপজেলার পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়টি যেন অবহেলা ও বৈষম্যের এক দীর্ঘ ইতিহাস বহন করে চলছে বছরের পর বছর। সরকারি সহায়তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ন্যূনতম শিক্ষাসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আজও সংগ্রাম করে টিকে আছে বিদ্যালয়টিতে। এলাকাবাসীর অভিযোগ—প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই বিদ্যালয়টি শিক্ষার মান ধরে রাখতে পারছে না।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে রয়েছে মাত্র একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর। বর্ষার দিনে সেই ঘরের চালে পানি ঝরে পড়ে নষ্ট হয় বই–খাতা, বেঞ্চ ও অন্যান্য সরঞ্জাম। রোদ উঠলে ক্লাস চলে খোলা আকাশের নিচে। শিশুদের পড়াশোনা যেন প্রকৃতির দয়ার উপরই নির্ভর করে আছে।
মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক একাই দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রেখেছেন। শিক্ষার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় এক একর জমি বিদ্যালয়ের জন্য দান করেছেন—যা এ অঞ্চলে বিরল দৃষ্টান্ত। স্থানীয়দের ভাষায়, তিনি একজন আদর্শবান শিক্ষক, যার প্রচেষ্টা ছাড়া বিদ্যালয়টি এতদিন দাঁড়িয়ে থাকত কিনা তা নিয়েও তাদের সন্দেহ।

পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের বেহাল চিত্র জানতে পেরে বিজয় সংগ্রাম ৭১ টিভির সাংবাদিক মাহবুবুল আলম বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে বিদ্যালয়ের ভয়াবহ অবস্থা দেখে তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে শোনেন তাদের দীর্ঘদিনের দুঃখ–কষ্টের গল্প। তিনি বিষয়টি জাতীয়ভাবে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক মাহবুবুল আলম বলেন—
“সরকার জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা নিয়ে বৈষম্য একটি জাতিকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা এখনই প্রয়োজন।” এলাকাবাসীর দাবি—শিগগিরই বিদ্যালয়টিতে বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি এবং আধুনিক সকল সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। তাদের আশা, সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ, মানসম্মত ও উপযোগী পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।
অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জামালপুরের পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাস শিক্ষা বঞ্চনায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী, সরকারি পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর**

প্রকাশিত : রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

জামালপুরের পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাস

শিক্ষা বঞ্চনায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী, সরকারি পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর**

মাহবুবুল আলম জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর সদর উপজেলার পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়টি যেন অবহেলা ও বৈষম্যের এক দীর্ঘ ইতিহাস বহন করে চলছে বছরের পর বছর। সরকারি সহায়তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ন্যূনতম শিক্ষাসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আজও সংগ্রাম করে টিকে আছে বিদ্যালয়টিতে। এলাকাবাসীর অভিযোগ—প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই বিদ্যালয়টি শিক্ষার মান ধরে রাখতে পারছে না।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে রয়েছে মাত্র একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর। বর্ষার দিনে সেই ঘরের চালে পানি ঝরে পড়ে নষ্ট হয় বই–খাতা, বেঞ্চ ও অন্যান্য সরঞ্জাম। রোদ উঠলে ক্লাস চলে খোলা আকাশের নিচে। শিশুদের পড়াশোনা যেন প্রকৃতির দয়ার উপরই নির্ভর করে আছে।
মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক একাই দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রেখেছেন। শিক্ষার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় এক একর জমি বিদ্যালয়ের জন্য দান করেছেন—যা এ অঞ্চলে বিরল দৃষ্টান্ত। স্থানীয়দের ভাষায়, তিনি একজন আদর্শবান শিক্ষক, যার প্রচেষ্টা ছাড়া বিদ্যালয়টি এতদিন দাঁড়িয়ে থাকত কিনা তা নিয়েও তাদের সন্দেহ।

পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের বেহাল চিত্র জানতে পেরে বিজয় সংগ্রাম ৭১ টিভির সাংবাদিক মাহবুবুল আলম বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে বিদ্যালয়ের ভয়াবহ অবস্থা দেখে তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে শোনেন তাদের দীর্ঘদিনের দুঃখ–কষ্টের গল্প। তিনি বিষয়টি জাতীয়ভাবে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক মাহবুবুল আলম বলেন—
“সরকার জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা নিয়ে বৈষম্য একটি জাতিকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা এখনই প্রয়োজন।” এলাকাবাসীর দাবি—শিগগিরই বিদ্যালয়টিতে বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি এবং আধুনিক সকল সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। তাদের আশা, সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ, মানসম্মত ও উপযোগী পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।
অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।