টাঙ্গাইল ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
“আগামীর বাংলাদেশে ঐক্যবন্ধভাবে নরসিংদী নেতৃত্ব দিবে” — ড. আবদুল মঈন খান আমীরগঞ্জ ইউপি সদস্য খালেদা পারভীন পেলেন বিভাগীয় অদম্য নারী পুরস্কার আলিফ নেটওয়ার্কের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১নং মগড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে পবিত্র মাহে রামাদান উপলক্ষে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাহফিলে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আরোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিশাল ইফতার মাহফিল জনসম্পৃক্ততায় এগিয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুমন খান প্রেস বিজ্ঞপ্তি তারিখ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের মৃত্যুতে শেখ হাসিনার শোক কালিহাতীতে সাংবাদিকদের সাথে ডাঃ শাহ আলম তালুকদারের ইফতার  সংরক্ষিত আসনে এমপি হিসেবে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লাকে দেখতে চায় কালিহাতীর সর্বস্তরের মানুষ বাসাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চেয়ারম্যান পদে ইঞ্জিনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সোহরাব হোসেন মিয়া-কে চান নেতাকর্মীরা কালিহাতী বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ওসি তৌফিক আজমের জিরো টলারেন্স অভিযান
ব্রেকিং নিউজ :
আপনারা সর্বশেষ নিউজের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করে রাখুন ... ATV Bangla News

জামালপুরের পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাস শিক্ষা বঞ্চনায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী, সরকারি পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর**

মাহবুবুল আলম জামালপুর প্রতিনিধি:
  • প্রকাশিত : রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৩৩৩ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরের পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাস

শিক্ষা বঞ্চনায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী, সরকারি পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর**

মাহবুবুল আলম জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর সদর উপজেলার পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়টি যেন অবহেলা ও বৈষম্যের এক দীর্ঘ ইতিহাস বহন করে চলছে বছরের পর বছর। সরকারি সহায়তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ন্যূনতম শিক্ষাসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আজও সংগ্রাম করে টিকে আছে বিদ্যালয়টিতে। এলাকাবাসীর অভিযোগ—প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই বিদ্যালয়টি শিক্ষার মান ধরে রাখতে পারছে না।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে রয়েছে মাত্র একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর। বর্ষার দিনে সেই ঘরের চালে পানি ঝরে পড়ে নষ্ট হয় বই–খাতা, বেঞ্চ ও অন্যান্য সরঞ্জাম। রোদ উঠলে ক্লাস চলে খোলা আকাশের নিচে। শিশুদের পড়াশোনা যেন প্রকৃতির দয়ার উপরই নির্ভর করে আছে।
মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক একাই দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রেখেছেন। শিক্ষার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় এক একর জমি বিদ্যালয়ের জন্য দান করেছেন—যা এ অঞ্চলে বিরল দৃষ্টান্ত। স্থানীয়দের ভাষায়, তিনি একজন আদর্শবান শিক্ষক, যার প্রচেষ্টা ছাড়া বিদ্যালয়টি এতদিন দাঁড়িয়ে থাকত কিনা তা নিয়েও তাদের সন্দেহ।

পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের বেহাল চিত্র জানতে পেরে বিজয় সংগ্রাম ৭১ টিভির সাংবাদিক মাহবুবুল আলম বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে বিদ্যালয়ের ভয়াবহ অবস্থা দেখে তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে শোনেন তাদের দীর্ঘদিনের দুঃখ–কষ্টের গল্প। তিনি বিষয়টি জাতীয়ভাবে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক মাহবুবুল আলম বলেন—
“সরকার জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা নিয়ে বৈষম্য একটি জাতিকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা এখনই প্রয়োজন।” এলাকাবাসীর দাবি—শিগগিরই বিদ্যালয়টিতে বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি এবং আধুনিক সকল সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। তাদের আশা, সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ, মানসম্মত ও উপযোগী পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।
অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জামালপুরের পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাস শিক্ষা বঞ্চনায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী, সরকারি পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর**

প্রকাশিত : রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

জামালপুরের পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাস

শিক্ষা বঞ্চনায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী, সরকারি পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর**

মাহবুবুল আলম জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর সদর উপজেলার পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়টি যেন অবহেলা ও বৈষম্যের এক দীর্ঘ ইতিহাস বহন করে চলছে বছরের পর বছর। সরকারি সহায়তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ন্যূনতম শিক্ষাসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আজও সংগ্রাম করে টিকে আছে বিদ্যালয়টিতে। এলাকাবাসীর অভিযোগ—প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই বিদ্যালয়টি শিক্ষার মান ধরে রাখতে পারছে না।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে রয়েছে মাত্র একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর। বর্ষার দিনে সেই ঘরের চালে পানি ঝরে পড়ে নষ্ট হয় বই–খাতা, বেঞ্চ ও অন্যান্য সরঞ্জাম। রোদ উঠলে ক্লাস চলে খোলা আকাশের নিচে। শিশুদের পড়াশোনা যেন প্রকৃতির দয়ার উপরই নির্ভর করে আছে।
মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক একাই দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রেখেছেন। শিক্ষার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় এক একর জমি বিদ্যালয়ের জন্য দান করেছেন—যা এ অঞ্চলে বিরল দৃষ্টান্ত। স্থানীয়দের ভাষায়, তিনি একজন আদর্শবান শিক্ষক, যার প্রচেষ্টা ছাড়া বিদ্যালয়টি এতদিন দাঁড়িয়ে থাকত কিনা তা নিয়েও তাদের সন্দেহ।

পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের বেহাল চিত্র জানতে পেরে বিজয় সংগ্রাম ৭১ টিভির সাংবাদিক মাহবুবুল আলম বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে বিদ্যালয়ের ভয়াবহ অবস্থা দেখে তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে শোনেন তাদের দীর্ঘদিনের দুঃখ–কষ্টের গল্প। তিনি বিষয়টি জাতীয়ভাবে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক মাহবুবুল আলম বলেন—
“সরকার জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা নিয়ে বৈষম্য একটি জাতিকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা এখনই প্রয়োজন।” এলাকাবাসীর দাবি—শিগগিরই বিদ্যালয়টিতে বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি এবং আধুনিক সকল সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। তাদের আশা, সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ, মানসম্মত ও উপযোগী পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।
অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।