টাঙ্গাইল ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নরসিংদী রেলস্টেশনে নিহত সাথী বেগমের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা প্রদান জেলা প্রশাসক আরাফ বাংলাদেশের রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত। নরসিংদীর মাও. ওমর ফারুক এর ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, মাদক-সন্ত্রাস দমনের দাবি টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত “সিংনা মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬” এর ফাইনাল খেলা।  টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় আর এস পাইলট স্কুলের ১৩ ব্যাচের উদ্যোগে জমকালো ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ও হাতি নিয়ে বর্ণাঢ্য শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নরসিংদী স্টেশনে হৃদয়বিদারক ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত মা ও সন্তান নরসিংদী জেলা প্রশাসনের ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী-শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ শেষে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের ধান গড়াই ২২ গ্রামের মাঠ এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। বীরবাসিন্দা ইউনিয়নবাসীর কাছে দোয়া, সমর্থন ও ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী
ব্রেকিং নিউজ :
আপনারা সর্বশেষ নিউজের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করে রাখুন ... ATV Bangla News

সন্ত্রাসী ভাইয়ের বিরুদ্ধে ওসির স্ত্রীর মামলা নিচ্ছে না পুলিশ!

নাহিদ খান
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • / ৩৫৪ বার পড়া হয়েছে

সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকার পরও ছয় মাসেও কক্সবাজার শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডজন মামলার আসামি আবুল মনসুর প্রকাশ লুদুর (৪৫) বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা নিচ্ছে না কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ।

গত ২৭ মার্চ ১০ লাখ টাকা চাঁদার জন্য জমি বিক্রি করতে দিচ্ছে না লুদু— এমন একটি লিখিত এজাহার করেছেন তার ছোট বোন গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আবুল মনসুরের স্ত্রী দিল নেওয়াজ বেগম (৪১)। তবে সেই এজাহারকে এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি কক্সবাজার সদর থানার ওসি মনির উল গিয়াস।

সদর থানা পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, শহরের উত্তর রুমালিয়ারছড়ার হাশেমিয়া মাদ্রাসার পাশের আবদু ছবুর সওদাগরের ছেলে আবুল মনসুর প্রকাশ লুদুর বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় ডাকাতি, অস্ত্র, হত্যাচেষ্টা, হত্যা, সরকারি কাজে বাধা, মারামারি, অপহরণ ও চাদাঁবাজিসহ ১২টির বেশি মামলা ও একাধিক জিডি রয়েছে।এ ছাড়া লুদু শহরের সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশয়দাতা বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী দিল নেওয়াজ বেগম বলেন, আমার ভাই ছোটবেলা থেকেই অপরাধে যুক্ত। অন্যের জমি দখল করে চাঁদা আদায় করতে এখন তিনি আপন বোনের জমি থেকেও চাঁদা দাবি করছেন। চাঁদা না দিলে প্রয়োজনে জানে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার বাবা ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর শহরের আলীর জাহালের সাইফুল কমিউনিটি সেন্টারের পাশে ৮ শতাংশ জমি দানপত্র মূলে আমাকে রেজিস্ট্রি করে দেন, যা আমার নামে খতিয়ান করা। সেই জমি আমি বিক্রি করতে গেলে আমার ভাই শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী লুদু ডাকাত আমাকে বাধা দিচ্ছে। ক্রেতাদের বারবার হুমকি দিচ্ছে, খুন করবে বলে শাসিয়ে তাড়াচ্ছে। ১০ লাখ টাকা দাবি করছে। এটির সুরাহা করতে আমরা পরিবারিকভাবে কয়েক দফা বসেছি। কিন্তু আমার বড় ভাই কারও কথা শুনেনি।

তিনি আরও বলেন, আমার জমি বিক্রিতে আমার অন্য ভাইবোনদের সমস্যা না থাকলেও লুদু ১০ লাখ টাকা চাঁদার জন্য আমার স্বামী মোহাম্মদ আবুল মনসুরকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ২৭ মার্চ আমি সদর থানায় লিখিত এজাহার করেছি। কিন্তু সাড়ে ৫ মাস কেটে গেলেও মামলা নিচ্ছে না সদর থানার ওসি।

দিল নেওয়াজ বেগম আরও বলেন, আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অতীতে সদর থানায় চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। এ ছাড়া আমার কাছে যে চাঁদা দাবি করেছে, তার অনেক সাক্ষী রয়েছে। আমি এমন ১৪ জন সাক্ষীর নাম-ঠিকানা মোবাইল নম্বর এজাহারে দিয়েছি। এর পরও মামলা নিচ্ছে না পুলিশ। এতে করে আমি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবুল মনসুর প্রকাশ লুদু বলেন, আমার বোন যে আমার বিরুদ্ধে এজাহার দিয়েছি, তা আমি জানি না। একথা বলে তিনি মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর থানার ওসি মনির উল গিয়াস বলেন, লুদু খারাপ লোক এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত আপন ভাইবোন এবং তাদের সমস্যাও পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে। তাই চাঁদাবাজির বিষয়টি রহস্যজনক মনে হয়েছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে— অভিযোগকারীর স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা। আমরা যদি মামলাটি নিয়ে তবে সেটি ওই কর্মকর্তার প্রভাবের কারণে নিয়েছি বলে সবাই মনে করবে। তাই বিষয়টি নিয়ে আমি সদর থানার সহকারী পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশ সুপারের পরামর্শ নিই। পরে বাদীকে বলেছি, আদালতের মাধ্যমে পারিবারিক বিষয়টির সুরাহা করতে। কিন্তু তিনি সেটি না করে পুলিশ প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ওঠেপড়ে লেগেছেন। তবে আমি এই চেয়ারে যতক্ষণ আছি ততক্ষণ বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেব না।

চাঁদাবাজির সাক্ষী থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অমূলক প্রচারণা। কোনো সাক্ষীই অভিযোগকারী উপস্থাপন করতে পারেনি। দালালদের দেওয়া সাক্ষাতের বিষয়ে ওসি গিয়াস বলেন, আপনারা আমাকে চিনেন, জানেন । আপনারা কি অতীতে কখনো শুনেছেন কোনো দালালের সঙ্গে, কোনো সন্ত্রাসীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে? আমি কোনো দালাল কিংবা ওসির প্রভাবে নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য বোধ থেকে সরে যাওয়ার মতো লোক নই।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মাহাফুজুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন এসেছি কক্সবাজারে। ২৭ মার্চের অভিযোগের বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

সন্ত্রাসী ভাইয়ের বিরুদ্ধে ওসির স্ত্রীর মামলা নিচ্ছে না পুলিশ!

প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকার পরও ছয় মাসেও কক্সবাজার শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডজন মামলার আসামি আবুল মনসুর প্রকাশ লুদুর (৪৫) বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা নিচ্ছে না কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ।

গত ২৭ মার্চ ১০ লাখ টাকা চাঁদার জন্য জমি বিক্রি করতে দিচ্ছে না লুদু— এমন একটি লিখিত এজাহার করেছেন তার ছোট বোন গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আবুল মনসুরের স্ত্রী দিল নেওয়াজ বেগম (৪১)। তবে সেই এজাহারকে এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি কক্সবাজার সদর থানার ওসি মনির উল গিয়াস।

সদর থানা পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, শহরের উত্তর রুমালিয়ারছড়ার হাশেমিয়া মাদ্রাসার পাশের আবদু ছবুর সওদাগরের ছেলে আবুল মনসুর প্রকাশ লুদুর বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় ডাকাতি, অস্ত্র, হত্যাচেষ্টা, হত্যা, সরকারি কাজে বাধা, মারামারি, অপহরণ ও চাদাঁবাজিসহ ১২টির বেশি মামলা ও একাধিক জিডি রয়েছে।এ ছাড়া লুদু শহরের সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশয়দাতা বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী দিল নেওয়াজ বেগম বলেন, আমার ভাই ছোটবেলা থেকেই অপরাধে যুক্ত। অন্যের জমি দখল করে চাঁদা আদায় করতে এখন তিনি আপন বোনের জমি থেকেও চাঁদা দাবি করছেন। চাঁদা না দিলে প্রয়োজনে জানে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার বাবা ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর শহরের আলীর জাহালের সাইফুল কমিউনিটি সেন্টারের পাশে ৮ শতাংশ জমি দানপত্র মূলে আমাকে রেজিস্ট্রি করে দেন, যা আমার নামে খতিয়ান করা। সেই জমি আমি বিক্রি করতে গেলে আমার ভাই শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী লুদু ডাকাত আমাকে বাধা দিচ্ছে। ক্রেতাদের বারবার হুমকি দিচ্ছে, খুন করবে বলে শাসিয়ে তাড়াচ্ছে। ১০ লাখ টাকা দাবি করছে। এটির সুরাহা করতে আমরা পরিবারিকভাবে কয়েক দফা বসেছি। কিন্তু আমার বড় ভাই কারও কথা শুনেনি।

তিনি আরও বলেন, আমার জমি বিক্রিতে আমার অন্য ভাইবোনদের সমস্যা না থাকলেও লুদু ১০ লাখ টাকা চাঁদার জন্য আমার স্বামী মোহাম্মদ আবুল মনসুরকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ২৭ মার্চ আমি সদর থানায় লিখিত এজাহার করেছি। কিন্তু সাড়ে ৫ মাস কেটে গেলেও মামলা নিচ্ছে না সদর থানার ওসি।

দিল নেওয়াজ বেগম আরও বলেন, আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অতীতে সদর থানায় চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। এ ছাড়া আমার কাছে যে চাঁদা দাবি করেছে, তার অনেক সাক্ষী রয়েছে। আমি এমন ১৪ জন সাক্ষীর নাম-ঠিকানা মোবাইল নম্বর এজাহারে দিয়েছি। এর পরও মামলা নিচ্ছে না পুলিশ। এতে করে আমি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবুল মনসুর প্রকাশ লুদু বলেন, আমার বোন যে আমার বিরুদ্ধে এজাহার দিয়েছি, তা আমি জানি না। একথা বলে তিনি মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর থানার ওসি মনির উল গিয়াস বলেন, লুদু খারাপ লোক এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত আপন ভাইবোন এবং তাদের সমস্যাও পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে। তাই চাঁদাবাজির বিষয়টি রহস্যজনক মনে হয়েছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে— অভিযোগকারীর স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা। আমরা যদি মামলাটি নিয়ে তবে সেটি ওই কর্মকর্তার প্রভাবের কারণে নিয়েছি বলে সবাই মনে করবে। তাই বিষয়টি নিয়ে আমি সদর থানার সহকারী পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশ সুপারের পরামর্শ নিই। পরে বাদীকে বলেছি, আদালতের মাধ্যমে পারিবারিক বিষয়টির সুরাহা করতে। কিন্তু তিনি সেটি না করে পুলিশ প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ওঠেপড়ে লেগেছেন। তবে আমি এই চেয়ারে যতক্ষণ আছি ততক্ষণ বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেব না।

চাঁদাবাজির সাক্ষী থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অমূলক প্রচারণা। কোনো সাক্ষীই অভিযোগকারী উপস্থাপন করতে পারেনি। দালালদের দেওয়া সাক্ষাতের বিষয়ে ওসি গিয়াস বলেন, আপনারা আমাকে চিনেন, জানেন । আপনারা কি অতীতে কখনো শুনেছেন কোনো দালালের সঙ্গে, কোনো সন্ত্রাসীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে? আমি কোনো দালাল কিংবা ওসির প্রভাবে নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য বোধ থেকে সরে যাওয়ার মতো লোক নই।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মাহাফুজুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন এসেছি কক্সবাজারে। ২৭ মার্চের অভিযোগের বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।