টাঙ্গাইল ১০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
এটিভি বাংলা নিউজের ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর উপস্থিতি; গান ও নৃত্যে মুগ্ধ কালিহাতীবাসী। নওগাঁয় শিশু সন্তানকে নদীর পানিতে ফেলেদিল  মা, উদ্ধারকারীকে পুরস্কৃত করল পুলিশ   নওগাঁয় পরিবেশ অধিদপ্তরের মোবাইল কোর্টে ৭টি ইটভাটার ২৯ লাখ টাকা জরিমানা নওগাঁয় সড়কে গাছ কেটে ডাকাতির চেষ্টা আটক-১ সকল সংবাদ কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি মাছুদুর রহমান মিলন বাসাইলে প্রভাবশালীদের দখলে ফসলি জমি, জীবনেশ্বর–শালিনা পাড়া রোডে নির্বিচারে মাটি কাটা খেলাধুলায় সৌহার্দ্য গড়ার উদ্যোগ, কালিহাতীতে উপজেলা প্রশাসনের ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট শুরু নওগাঁয় বিল থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার দক্ষিণ বেতডোবায় ১৫ তম মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত। এটিভি বাংলা নিউজের ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
ব্রেকিং নিউজ :
এটিভি বাংলা নিউজ এর ২২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে "১৫ জানুয়ারি ২০২৬" তারিখে  জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে | টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার আউলিয়াবাদ অডিটোরিয়ামে| আপনারা সর্বশেষ নিউজের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করে রাখুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, অতঃপর থানায় ডাইরি।

নাহিদ খান
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
  • / ৩৯০ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, অতঃপর থানায় ডাইরি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় আব্দুল হাই মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে মিজান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিজয়নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। মিজান নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আব্দুল হাইকে ইসলামপুর ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চাপ দেন। আব্দুল হাই এতে রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মে আব্দুল হাই ডেভিলহান্টের আওতাধীন পুলিশ কর্তৃক আটক বীর কুমার নামের এক ব্যক্তিকে ইসলামপুর ফাঁড়িতে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেন। এই ঘটনার পর মিজান নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আব্দুল হাইকে বারবার ফোন করে ইসলামপুর ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চাপ দেন। আব্দুল হাই মিথ্যা তথ্য দিতে রাজি না হওয়ায় মিজান তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এবং সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে আব্দুল হাই শারীরিক, মানসিক এবং মানসম্মান হারানোর ভয়ে বিজয়নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

আব্দুল হাই জানিয়েছেন, জিডি করার পর মিজান একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। এই সংবাদে অডিও রেকর্ডে আব্দুল হাই এবং মোটরসাইকেল মেকানিক রোশন আলীর সাক্ষ্য নেওয়া হলেও, রেকর্ডে টাকা লেনদেনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উপজেলা বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান, সোহেল রাসেল, রাষ্ট্র মিয়া, ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি নয়ন সহ অনেকেই জানিয়েছেন যে, মিজান একজন টেইলার। তবে বর্তমানে তিনি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গিয়ে তাদের ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেন। উদাহরণস্বরূপ, গত কয়েক মাস পূর্বে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ভিডিও ফুটেজ এলাকার মানুষের মোবাইল ফোনে ভাইরাল।

বিজয়নগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলী রেজা মামুন জানান, অভিযুক্ত মিজানের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। মামলাগুলো হলো:
* ১। হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানা: এফআইআর নং-২৮/৪১০, তারিখ- ২৭ অক্টোবর, ২০১৭; ধারা-১১ (গ)/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)।
* ২। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানা: এফআইআর নং-০১, তারিখ- ০১ জুলাই, ২০১৫, ধারা-১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড-১৮৬০।
* ৩। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা: এফআইআর নং-১৫, তারিখ-০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫; জি আর নং-৬৮, তারিখ-০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ধারা-১৪৩/৩২৩/৩৮৫/৫০৬(২)/৩৭৯ পেনাল কোড, ১৮৬০।
এসআই আলী রেজা মামুন আরো জানিয়েছেন, মিজানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, অতঃপর থানায় ডাইরি।

প্রকাশিত : সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, অতঃপর থানায় ডাইরি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় আব্দুল হাই মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে মিজান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিজয়নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। মিজান নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আব্দুল হাইকে ইসলামপুর ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চাপ দেন। আব্দুল হাই এতে রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মে আব্দুল হাই ডেভিলহান্টের আওতাধীন পুলিশ কর্তৃক আটক বীর কুমার নামের এক ব্যক্তিকে ইসলামপুর ফাঁড়িতে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেন। এই ঘটনার পর মিজান নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আব্দুল হাইকে বারবার ফোন করে ইসলামপুর ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চাপ দেন। আব্দুল হাই মিথ্যা তথ্য দিতে রাজি না হওয়ায় মিজান তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এবং সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে আব্দুল হাই শারীরিক, মানসিক এবং মানসম্মান হারানোর ভয়ে বিজয়নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

আব্দুল হাই জানিয়েছেন, জিডি করার পর মিজান একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। এই সংবাদে অডিও রেকর্ডে আব্দুল হাই এবং মোটরসাইকেল মেকানিক রোশন আলীর সাক্ষ্য নেওয়া হলেও, রেকর্ডে টাকা লেনদেনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উপজেলা বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান, সোহেল রাসেল, রাষ্ট্র মিয়া, ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি নয়ন সহ অনেকেই জানিয়েছেন যে, মিজান একজন টেইলার। তবে বর্তমানে তিনি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গিয়ে তাদের ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেন। উদাহরণস্বরূপ, গত কয়েক মাস পূর্বে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ভিডিও ফুটেজ এলাকার মানুষের মোবাইল ফোনে ভাইরাল।

বিজয়নগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলী রেজা মামুন জানান, অভিযুক্ত মিজানের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। মামলাগুলো হলো:
* ১। হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানা: এফআইআর নং-২৮/৪১০, তারিখ- ২৭ অক্টোবর, ২০১৭; ধারা-১১ (গ)/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)।
* ২। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানা: এফআইআর নং-০১, তারিখ- ০১ জুলাই, ২০১৫, ধারা-১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড-১৮৬০।
* ৩। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা: এফআইআর নং-১৫, তারিখ-০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫; জি আর নং-৬৮, তারিখ-০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ধারা-১৪৩/৩২৩/৩৮৫/৫০৬(২)/৩৭৯ পেনাল কোড, ১৮৬০।
এসআই আলী রেজা মামুন আরো জানিয়েছেন, মিজানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।