নরসিংদীর এলজিডির নিয়ম না মানার অভিযোগ; ভোগান্তির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে মানববন্ধনে এলাকাবাসী
- প্রকাশিত : শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
- / ১ বার পড়া হয়েছে
নরসিংদীর এলজিডির নিয়ম না মানার অভিযোগ; ভোগান্তির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে মানববন্ধনে এলাকাবাসী
বশির আহম্মদ মোল্লা,নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদী সদর উপজেলার শিলমান্দী ইউনিয়নে অবস্থিত এনআর স্পিনিং মিলস লিমিটেড আবারও আলোচনায় এসেছে। গ্যাস লাইন সম্প্রসারণের জন্য নতুন করে রাস্তা কাটার উদ্যোগের খবরে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী সবুজ পরিবেশের মাঝে গড়ে ওঠা এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি সুতা উৎপাদনে সক্রিয় থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা অভিযোগে বিতর্কিত। স্থানীয়দের দাবি, ফসলি জমি দখল, শ্রমিক নির্যাতন, রাস্তা দখল করে শেড নির্মাণের চেষ্টা এবং পূর্বে গ্যাস সংযোগের সময় দীর্ঘদিন রাস্তা কেটে ফেলে রাখার মতো একাধিক অনিয়ম করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগ রয়েছে, শিলমান্দী হাইওয়ে থেকে মিলস পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা কেটে প্রায় তিন বছর সংস্কার না করে ফেলে রাখা হয়। এতে হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও কর্মজীবী মানুষদের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল। পরে সরকারিভাবে রাস্তাটি ঠিক করা হয়।
নতুন করে গ্যাস লাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পূর্বে ৮ ইঞ্চি পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় আবারও রাস্তা কাটার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, Local Government Engineering Department (LGED)-এর অধীন কোনো রাস্তা কাটতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে পূর্বানুমতি গ্রহণ, নির্ধারিত ফি ও জামানত প্রদান, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কাজ সম্পন্ন করা এবং কাজ শেষে দ্রুত রাস্তা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া। এসব নিয়ম অমান্য করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর এলাকাবাসী মানববন্ধনের মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ জানান। এতে স্থানীয় মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, অতীতের মতো আবারও যদি নিয়ম না মেনে রাস্তা কাটা হয়, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ লাইন স্থাপনের বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি, ফলে অনেক পরিবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মাহবুবুর রহমান ফরাজি বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ চলাচল করে। অতীতে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তা আর দেখতে চাই না। নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে।”মানববন্ধনের আহ্বায়ক সোহরাব খান বলেন, “শিল্পপ্রতিষ্ঠান এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে—এটাই প্রত্যাশা। কিন্তু এনআর স্পিনিং মিলস থেকে আমরা শুধু ভোগান্তিই পেয়েছি। নিয়মের বাইরে গেলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা কামাল হোসেন বলেন, শিল্পাঞ্চলে গ্যাস প্রয়োজন, তবে তা যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, “আগে রাস্তা কাটার কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছিল যে রিকশাও চলতে পারেনি। গর্ভবতী নারীসহ সাধারণ মানুষ চরম কষ্টে ছিলেন। এবার জনগণের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”এ বিষয়ে মিলস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, জনসাধারণের ভোগান্তি এড়িয়েই কাজ করার চেষ্টা করা হবে।
শিল্পায়নের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা যেন স্থানীয় জনগণের ভোগান্তির কারণ না হয় এই দাবি এখন শিলমান্দীর মানুষের। এলজিডির নিয়ম মেনে পরিকল্পিতভাবে কাজ বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ।










