টাঙ্গাইল ০৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
কালিহাতী থানার ওসির , এস আই ও ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ নানা অনিয়ম দমনে কঠোর অবস্থানে কালিহাতীর ইউএনও খায়রুল ইসলাম নরসিংদীর “রায়পুরায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩৫ কেজি গাঁজা ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩” নরসিংদীতে উৎসবমুখর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর ফাইনাল খেলায় রায়পুরা উপজেলা বিজয়ী শান্তি-সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিতকরণে মনোহরদী পিএফজি’র নাগরিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রত্যয় গত ২০ বছরে একটি জেনারেশন নষ্ট হয়েছে- বিএমইউ উপাচার্য ডা. এফ এম সিদ্দিকী নাগবাড়ী ইউনিয়ন ১ নং ওয়ার্ডের যুব আন্দোলন সভাপতি  নুর আলম কাপ্পির বাড়িতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নরসিংদীর রায়পুরায় আশ্বাস প্রকল্পের মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির দাবি টার্গেট প্রপার নিউজের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন
ব্রেকিং নিউজ :
আপনারা সর্বশেষ নিউজের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করে রাখুন ... ATV Bangla News

জামালপুরের পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাস শিক্ষা বঞ্চনায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী, সরকারি পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর**

মাহবুবুল আলম জামালপুর প্রতিনিধি:
  • প্রকাশিত : রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৪১৪ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরের পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাস

শিক্ষা বঞ্চনায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী, সরকারি পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর**

মাহবুবুল আলম জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর সদর উপজেলার পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়টি যেন অবহেলা ও বৈষম্যের এক দীর্ঘ ইতিহাস বহন করে চলছে বছরের পর বছর। সরকারি সহায়তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ন্যূনতম শিক্ষাসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আজও সংগ্রাম করে টিকে আছে বিদ্যালয়টিতে। এলাকাবাসীর অভিযোগ—প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই বিদ্যালয়টি শিক্ষার মান ধরে রাখতে পারছে না।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে রয়েছে মাত্র একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর। বর্ষার দিনে সেই ঘরের চালে পানি ঝরে পড়ে নষ্ট হয় বই–খাতা, বেঞ্চ ও অন্যান্য সরঞ্জাম। রোদ উঠলে ক্লাস চলে খোলা আকাশের নিচে। শিশুদের পড়াশোনা যেন প্রকৃতির দয়ার উপরই নির্ভর করে আছে।
মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক একাই দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রেখেছেন। শিক্ষার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় এক একর জমি বিদ্যালয়ের জন্য দান করেছেন—যা এ অঞ্চলে বিরল দৃষ্টান্ত। স্থানীয়দের ভাষায়, তিনি একজন আদর্শবান শিক্ষক, যার প্রচেষ্টা ছাড়া বিদ্যালয়টি এতদিন দাঁড়িয়ে থাকত কিনা তা নিয়েও তাদের সন্দেহ।

পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের বেহাল চিত্র জানতে পেরে বিজয় সংগ্রাম ৭১ টিভির সাংবাদিক মাহবুবুল আলম বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে বিদ্যালয়ের ভয়াবহ অবস্থা দেখে তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে শোনেন তাদের দীর্ঘদিনের দুঃখ–কষ্টের গল্প। তিনি বিষয়টি জাতীয়ভাবে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক মাহবুবুল আলম বলেন—
“সরকার জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা নিয়ে বৈষম্য একটি জাতিকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা এখনই প্রয়োজন।” এলাকাবাসীর দাবি—শিগগিরই বিদ্যালয়টিতে বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি এবং আধুনিক সকল সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। তাদের আশা, সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ, মানসম্মত ও উপযোগী পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।
অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জামালপুরের পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাস শিক্ষা বঞ্চনায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী, সরকারি পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর**

প্রকাশিত : রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

জামালপুরের পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাস

শিক্ষা বঞ্চনায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী, সরকারি পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর**

মাহবুবুল আলম জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর সদর উপজেলার পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়টি যেন অবহেলা ও বৈষম্যের এক দীর্ঘ ইতিহাস বহন করে চলছে বছরের পর বছর। সরকারি সহায়তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ন্যূনতম শিক্ষাসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আজও সংগ্রাম করে টিকে আছে বিদ্যালয়টিতে। এলাকাবাসীর অভিযোগ—প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই বিদ্যালয়টি শিক্ষার মান ধরে রাখতে পারছে না।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে রয়েছে মাত্র একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর। বর্ষার দিনে সেই ঘরের চালে পানি ঝরে পড়ে নষ্ট হয় বই–খাতা, বেঞ্চ ও অন্যান্য সরঞ্জাম। রোদ উঠলে ক্লাস চলে খোলা আকাশের নিচে। শিশুদের পড়াশোনা যেন প্রকৃতির দয়ার উপরই নির্ভর করে আছে।
মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক একাই দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রেখেছেন। শিক্ষার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় এক একর জমি বিদ্যালয়ের জন্য দান করেছেন—যা এ অঞ্চলে বিরল দৃষ্টান্ত। স্থানীয়দের ভাষায়, তিনি একজন আদর্শবান শিক্ষক, যার প্রচেষ্টা ছাড়া বিদ্যালয়টি এতদিন দাঁড়িয়ে থাকত কিনা তা নিয়েও তাদের সন্দেহ।

পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের বেহাল চিত্র জানতে পেরে বিজয় সংগ্রাম ৭১ টিভির সাংবাদিক মাহবুবুল আলম বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে বিদ্যালয়ের ভয়াবহ অবস্থা দেখে তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে শোনেন তাদের দীর্ঘদিনের দুঃখ–কষ্টের গল্প। তিনি বিষয়টি জাতীয়ভাবে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক মাহবুবুল আলম বলেন—
“সরকার জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা নিয়ে বৈষম্য একটি জাতিকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা এখনই প্রয়োজন।” এলাকাবাসীর দাবি—শিগগিরই বিদ্যালয়টিতে বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি এবং আধুনিক সকল সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। তাদের আশা, সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ, মানসম্মত ও উপযোগী পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।
অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।