টাঙ্গাইল ০৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক, সাবেক মন্ত্রী, কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সিরাজ এর ৬ষ্ঠ মৃ’ত্যুবা’র্ষিকী পালিত দীর্ঘ ২২ বছর পর গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় উজিরপুরের সাতলায় জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ, বসতভিটা ছাড়ার হুমকির দাবি নওগাঁয় নিজ বাড়ি থেকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার নরসিংদীর রায়পুরায় চরসুবুদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মইনুল ইসলাম সরকার এর নাম সকলের মুখে মুখে কালারবাড়ী জামিয়া ইসলামিয়া কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানা মসজিদের নতুন ভবন নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন নাগরিয়াকান্দি-শালিধার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে বেকু নিয়ে মাঠে ছাত্রদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ নরসিংদীতে মরহুম নুরুল ইসলামের ৬ষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গোকর্ণ ঘাটে বস্তি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্ভোধন সংসদ সদস্য ইঞ্জিঃ খালেদ মাহবুব শ্যামল। কালিহাতীতে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে গুলি ও ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
ব্রেকিং নিউজ :
আপনারা সর্বশেষ নিউজের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করে রাখুন ... ATV Bangla News

টাঙ্গাইলে রাজনীতির বটবৃক্ষ,    “হামিদুল হক মোহন” নামক নক্ষত্রের চিরপ্রস্থান 

নাহিদ খান
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৭৬ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলে রাজনীতির বটবৃক্ষ,    “হামিদুল হক মোহন” নামক নক্ষত্রের চিরপ্রস্থান

 

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন,কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বনির্ভর বিযয়ক সম্পাদক,টাঙ্গাইল নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহনের মৃত্যু মানে টাঙ্গাইলে রাজনীতির বটবৃক্ষ নামক নক্ষত্রের চিরপ্রস্থান ।

২০ অক্টোবর(সোমবার)বিকালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেওলী এলাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রইমান ঘোষিত রাস্ট্র মেরামতের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ শেষে নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় বক্তব্য শেষ করে স্থানীয় মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করে পরবর্তী  এলাসিনে আরেকটি প্রচারণায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে গাড়িতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন বরেণ্য রাজনীতিক। দ্রুত  তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মেডিসিন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল আলম জানান, “সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হামিদুল হক মোহনকে হাসপাতালে আনা হয়। ইসিজি করার পর আমরা দেখি, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন।”

দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস. এম. ফেরদৌস বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন দেলদুয়ার–নাগরপুর আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এজন্য গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে জনসংযোগ ও সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রইমান ঘোষিত রাস্ট্র মেরামতের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করে যাচ্ছিলেন।দেওলী এলাকায় মতবিনিময় সভা শেষে এলাসিন এলাকায় আরেকটি প্রচারণায় যাওয়ার পথে তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন।

বরেণ্য রাজনীতিক হামিদুল হক মোহনের মৃ্ত্যুু সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে টাঙ্গাইল শহরসহ সারা জেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়,তার ভক্ত, অনুরাগী,সুহৃদ রা নানাভাবে তার স্মৃতি চারন করে পোস্ট দিতে থাকেন।

২১ অক্টোবর মঙ্গলবার জোহরের নামাজ শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহনকে রাস্ট্রের পক্ষ থেকে পুলিশের একটি চৌকষ দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজায় অংশ নেন,কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী,বাংলাদেশ মামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর মাসুদসহ কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান,আব্দুল সালাম পিন্টু,নির্বাহী কমিটির সদস্য,মাহবুব আনাম স্বপন,লুৎফর রহমান আজাদ,লুৎফর রহমান মতিন,জেলা উপজেলার বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীসহ অগনিত মানুষ ।

হামিদুল হক মোহন ১৯৫২ সালের ৮ আগস্ট টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার মঙ্গলহোড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তার বাবা মরহুম আইনউদ্দিন আহমেদ ছিলেন পাথরাইল ইউনিয়ন পরিষদের  দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান ও সমাজসেবক।

তার শিক্ষাজীবন শুরু টাঙ্গাইল শহরে; পরবর্তীতে তিনি বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও জামুর্কী নবাব স্যার আব্দুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন।
এসএসসি (১৯৬৫), এইচএসসি (১৯৬৬) ও স্নাতক (১৯৬৮) সম্পন্ন করেন সা’দত কলেজ থেকে।

মাওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি টাঙ্গাইল হাই কমান্ডের সদস্য হিসেবে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন। স্বাধীনতার পর তিনি নির্বাচিত হন বিআরডিবি টাঙ্গাইল ও দেলদুয়ারের চেয়ারম্যান।

শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে তিনি “দূতপুল”-এর সদস্য হিসেবে উপমন্ত্রীর মর্যাদা লাভ করেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে টানা ১৭ বছর দায়িত্ব পালন করেন।

নিজ গ্রাম মঙ্গলহোড়ে তিনি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে ৭ বার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানেও একই পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তার তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে —ফাজিলহাটি তমিজ উদ্দিন গার্লস হাই স্কুল, বরুহা হাই স্কুল, আটিয়া শাহানশাহী গার্লস হাই স্কুল।

তিনি ছিলেন টাঙ্গাইল নাট্যমহল–এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন “সরগম”–এর অন্যতম চালিকাশক্তি।

খেলাধুলার অঙ্গনেও ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তিনি ছিলেন টাঙ্গাইল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি, টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রথম নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান এবং দীর্ঘদিন টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল লীগ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৭১ সালে তিনি ভাষাসৈনিক সৈয়দ আব্দুল মতিনের কনিষ্ঠ ভগ্নি নুরুন্নাহার পুটির সাথে তিনি পরিনয় সূত্রে আবদ্ধ হন ।

তিনি মৃত্যুকালে পাঁচ সন্তান রেখে গেছেন — নিপা হক, মিল্টন হক, হাছিনা আফরোজ দিনা, হামিদা আফরোজ ও নাজমুল হক বাবু।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

টাঙ্গাইলে রাজনীতির বটবৃক্ষ,    “হামিদুল হক মোহন” নামক নক্ষত্রের চিরপ্রস্থান 

প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

টাঙ্গাইলে রাজনীতির বটবৃক্ষ,    “হামিদুল হক মোহন” নামক নক্ষত্রের চিরপ্রস্থান

 

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন,কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বনির্ভর বিযয়ক সম্পাদক,টাঙ্গাইল নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহনের মৃত্যু মানে টাঙ্গাইলে রাজনীতির বটবৃক্ষ নামক নক্ষত্রের চিরপ্রস্থান ।

২০ অক্টোবর(সোমবার)বিকালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেওলী এলাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রইমান ঘোষিত রাস্ট্র মেরামতের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ শেষে নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় বক্তব্য শেষ করে স্থানীয় মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করে পরবর্তী  এলাসিনে আরেকটি প্রচারণায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে গাড়িতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন বরেণ্য রাজনীতিক। দ্রুত  তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মেডিসিন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল আলম জানান, “সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হামিদুল হক মোহনকে হাসপাতালে আনা হয়। ইসিজি করার পর আমরা দেখি, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন।”

দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস. এম. ফেরদৌস বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন দেলদুয়ার–নাগরপুর আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এজন্য গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে জনসংযোগ ও সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রইমান ঘোষিত রাস্ট্র মেরামতের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করে যাচ্ছিলেন।দেওলী এলাকায় মতবিনিময় সভা শেষে এলাসিন এলাকায় আরেকটি প্রচারণায় যাওয়ার পথে তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন।

বরেণ্য রাজনীতিক হামিদুল হক মোহনের মৃ্ত্যুু সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে টাঙ্গাইল শহরসহ সারা জেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়,তার ভক্ত, অনুরাগী,সুহৃদ রা নানাভাবে তার স্মৃতি চারন করে পোস্ট দিতে থাকেন।

২১ অক্টোবর মঙ্গলবার জোহরের নামাজ শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহনকে রাস্ট্রের পক্ষ থেকে পুলিশের একটি চৌকষ দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজায় অংশ নেন,কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী,বাংলাদেশ মামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর মাসুদসহ কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান,আব্দুল সালাম পিন্টু,নির্বাহী কমিটির সদস্য,মাহবুব আনাম স্বপন,লুৎফর রহমান আজাদ,লুৎফর রহমান মতিন,জেলা উপজেলার বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীসহ অগনিত মানুষ ।

হামিদুল হক মোহন ১৯৫২ সালের ৮ আগস্ট টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার মঙ্গলহোড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তার বাবা মরহুম আইনউদ্দিন আহমেদ ছিলেন পাথরাইল ইউনিয়ন পরিষদের  দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান ও সমাজসেবক।

তার শিক্ষাজীবন শুরু টাঙ্গাইল শহরে; পরবর্তীতে তিনি বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও জামুর্কী নবাব স্যার আব্দুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন।
এসএসসি (১৯৬৫), এইচএসসি (১৯৬৬) ও স্নাতক (১৯৬৮) সম্পন্ন করেন সা’দত কলেজ থেকে।

মাওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি টাঙ্গাইল হাই কমান্ডের সদস্য হিসেবে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন। স্বাধীনতার পর তিনি নির্বাচিত হন বিআরডিবি টাঙ্গাইল ও দেলদুয়ারের চেয়ারম্যান।

শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে তিনি “দূতপুল”-এর সদস্য হিসেবে উপমন্ত্রীর মর্যাদা লাভ করেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে টানা ১৭ বছর দায়িত্ব পালন করেন।

নিজ গ্রাম মঙ্গলহোড়ে তিনি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে ৭ বার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানেও একই পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তার তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে —ফাজিলহাটি তমিজ উদ্দিন গার্লস হাই স্কুল, বরুহা হাই স্কুল, আটিয়া শাহানশাহী গার্লস হাই স্কুল।

তিনি ছিলেন টাঙ্গাইল নাট্যমহল–এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন “সরগম”–এর অন্যতম চালিকাশক্তি।

খেলাধুলার অঙ্গনেও ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তিনি ছিলেন টাঙ্গাইল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি, টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রথম নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান এবং দীর্ঘদিন টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল লীগ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৭১ সালে তিনি ভাষাসৈনিক সৈয়দ আব্দুল মতিনের কনিষ্ঠ ভগ্নি নুরুন্নাহার পুটির সাথে তিনি পরিনয় সূত্রে আবদ্ধ হন ।

তিনি মৃত্যুকালে পাঁচ সন্তান রেখে গেছেন — নিপা হক, মিল্টন হক, হাছিনা আফরোজ দিনা, হামিদা আফরোজ ও নাজমুল হক বাবু।