টাঙ্গাইল ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নরসিংদীর রায়পুরায় মাসব্যাপী কুটির শিল্প ও পণ্য মেলার উদ্বোধন নরিসংদীতে রায়পুরা ম্যারাথনে দেশ-বিদেশের পপ্রায় এক হাজার দৌড়বিদ অংশ গপ্রহন উপেক্ষিত মন্ত্রীর নির্দেশ ! “ বাঁশকাণ্ডে কাঁপছে বাসাইল, অধরা ঠিকাদার জাহাঙ্গীর ” নরসিংদীর রায়পুরায় দুর্নীতি-অনিয়ম ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নয়: ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল ঘুষের টাকা না পেয়ে হয়রানীর অভিযোগ ভূঞাপুরের ওসি রেজাউলের বিরুদ্ধে সকল সংগঠন ও সংবাদ কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান  আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান নাহিদকে মেয়র পদে দেখতে সকলের দোয়া-সমর্থন প্রত্যাশা কামনা করছেন নরসিংদী পৌরবাসী ও দলের সমর্থকবৃন্দরা নরসিংদীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে নরসিংদীতে আলোচনা সভা ও গুনী শিক্ষকদের মাঝে ক্রেষ্ট প্রদান ১০ হাজার টাকা ফেরত চাওয়ায় বোনকে মারধরের অভিযোগ, মাথায় গুরুতর আঘাত জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১ম বৈঠক অনুষ্ঠিত
ব্রেকিং নিউজ :
আপনারা সর্বশেষ নিউজের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করে রাখুন ... ATV Bangla News

নরসিংদীতে ২ কোটি টাকার সড়কে হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

বশির আহম্মদ মোল্লা,নরসিংদী প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

নরসিংদীতে ২ কোটি টাকার সড়কে হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

বশির আহম্মদ মোল্লা, নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিংয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজ শেষ হওয়ার এক দিনের মধ্যেই হাত দিয়ে ঘষা বা পা দিয়ে চাপ দিলেই পিচের আস্তরণ উঠে যাচ্ছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের আওতায় খিদিরপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বৈরাগীরচর–কালিরচর–ভাওয়ালিয়াপাড়া হয়ে মনতলা বাজার পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ মিটার সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মরিয়ম এন্টারপ্রাইজ গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে প্রায় এক হাজার মিটার অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করে। বাকি রয়েছে প্রায় ৪০০ মিটার।

পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয়রা সড়কটি পরিদর্শন করে দেখেন, বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে ঘষা বা পা দিয়ে চাপ দিলেই কার্পেটিং উঠে আসছে। তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ইটের খোয়া, বালু ও পাথরের স্তর যথাযথভাবে প্রস্তুত না করেই মাটির ওপর কার্পেটিং করা হয়েছে। ফলে সড়কের সঙ্গে পিচের স্তর সঠিকভাবে সংযুক্ত হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল কর্মকর্তাদের যোগসাজশের কারণেই নিম্নমানের কাজ হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর তদারকি থাকলে ঠিকাদার এমন কাজ করার সাহস পেতেন না।

ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তারা গণমাধ্যমকর্মী ও এলাকাবাসীকে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।

পরে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি নিয়ম অনুযায়ী সড়কের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মরিয়ম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হাসান মিয়া বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলী যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, সেভাবেই কাজ করেছি। তবে এলাকাবাসীকে কথা দিয়েছি, আমার ক্ষতি হলেও সড়কের যে সমস্যা হয়েছে, তা সমাধান করে দেব।

মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা বলেন, সড়কের অনিয়মের বিষয়ে আমি অবগত। সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফুলকাম বাদশা বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান করা হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, পুরো সড়কের কারিগরি পরীক্ষা, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই এবং প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না তা তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্মাণের পরপরই যদি একটি সরকারি সড়কের কার্পেটিং উঠে যায়, তাহলে তা শুধু জনদুর্ভোগই নয়, সরকারি অর্থের অপচয়েরও শঙ্কা তৈরি করে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নরসিংদীতে ২ কোটি টাকার সড়কে হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

প্রকাশিত : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নরসিংদীতে ২ কোটি টাকার সড়কে হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

বশির আহম্মদ মোল্লা, নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিংয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজ শেষ হওয়ার এক দিনের মধ্যেই হাত দিয়ে ঘষা বা পা দিয়ে চাপ দিলেই পিচের আস্তরণ উঠে যাচ্ছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের আওতায় খিদিরপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বৈরাগীরচর–কালিরচর–ভাওয়ালিয়াপাড়া হয়ে মনতলা বাজার পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ মিটার সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মরিয়ম এন্টারপ্রাইজ গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে প্রায় এক হাজার মিটার অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করে। বাকি রয়েছে প্রায় ৪০০ মিটার।

পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয়রা সড়কটি পরিদর্শন করে দেখেন, বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে ঘষা বা পা দিয়ে চাপ দিলেই কার্পেটিং উঠে আসছে। তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ইটের খোয়া, বালু ও পাথরের স্তর যথাযথভাবে প্রস্তুত না করেই মাটির ওপর কার্পেটিং করা হয়েছে। ফলে সড়কের সঙ্গে পিচের স্তর সঠিকভাবে সংযুক্ত হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল কর্মকর্তাদের যোগসাজশের কারণেই নিম্নমানের কাজ হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর তদারকি থাকলে ঠিকাদার এমন কাজ করার সাহস পেতেন না।

ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তারা গণমাধ্যমকর্মী ও এলাকাবাসীকে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।

পরে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি নিয়ম অনুযায়ী সড়কের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মরিয়ম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হাসান মিয়া বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলী যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, সেভাবেই কাজ করেছি। তবে এলাকাবাসীকে কথা দিয়েছি, আমার ক্ষতি হলেও সড়কের যে সমস্যা হয়েছে, তা সমাধান করে দেব।

মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা বলেন, সড়কের অনিয়মের বিষয়ে আমি অবগত। সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফুলকাম বাদশা বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান করা হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, পুরো সড়কের কারিগরি পরীক্ষা, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই এবং প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না তা তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্মাণের পরপরই যদি একটি সরকারি সড়কের কার্পেটিং উঠে যায়, তাহলে তা শুধু জনদুর্ভোগই নয়, সরকারি অর্থের অপচয়েরও শঙ্কা তৈরি করে।